সুদিন ফিরে পেতে চান পিরোজপুরের মৃৎশিল্পীরা

ঢাকা, শনিবার   ১২ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

সুদিন ফিরে পেতে চান পিরোজপুরের মৃৎশিল্পীরা

ইমন চৌধুরী, পিরোজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ৭ মে ২০২১  

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ভালো নেই পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রামের মৃৎশিল্পীরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে হাঁড়ি-পাতিল, সানকি, টুপা-ডুপি, ঢাকনা, মাটির পুতুলসহ হরেক তৈজসপত্র তৈরি ও বিক্রি করে সংসার চালাতেন তারা। চলমান লকডাউনে বেচা-বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে সুদিন ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন  কুমারপাড়ার কারিগররা।

পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রামের কুমার পল্লী। এখানে পাল সাম্প্রদায়ের প্রায় ১৫০টি পরিবার শত শত বছর ধরে বসবাস করছে। এ সম্প্রদায়ের প্রধান জীবিকা মৃৎশিল্প। কুমার পল্লীর শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নারী-পুরুষ সবাই এ কাজ করেন। বছরের পর বছর তাদের নিপুণ হাতে তৈরি হয় হাঁড়ি-পাতিল, সানকি, টুপা ডুপি, ঢাকনা, মাটির পুতুলসহ হরেক রকম তৈজসপত্র। বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন উৎসব ও সাপ্তাহিক হাট-বাজারে এসব পণ্য বিক্রি করেই তাদের সংসার চালাতে হয়।

মাটি দিয়ে তৈজসপত্র বানাচ্ছেন কুমার পাড়ার কারিগররা

কুমার পল্লীর কারিগর পরশ পাল ও পূজা পাল জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর ধরে শূন্যে নেমে এসেছে মাটির তৈজসপত্র বেচা-বিক্রি। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এ পরিস্থিতিতে সরকার পাশে না দাঁড়ালে কুমার পল্লীর বাসিন্দাদের না খেয়ে মরতে হবে বলেও জানান তারা।

মাটির বাসন তৈরির পর শুকানো হচ্ছে

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৃৎশিল্পীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও বশির আহমেদ বলেন, আমরা এরই মধ্যে মৃৎশিল্পীদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। ভবিষৎতেও দেয়া হবে। এছাড়া এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করা হবে। আশা করি, বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে সুদিন ফিরবে মৃতশিল্পে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর