তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন কয়েক মিনিটেই হলো ছাই

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ২ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন কয়েক মিনিটেই হলো ছাই

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৯ ৫ মে ২০২১  

পুড়ে যাওয়া ঘর ও মালামাল

পুড়ে যাওয়া ঘর ও মালামাল

অন্যের বাড়িতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালান আলমগীর হোসেন আলম। তিল তিল করে জমানো টাকায় গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের ঘর।  চোখের সামনে মাত্র কয়েক মিনিটেই পুড়ে ছাই হয়ে গেল সেই ঘর। দাঁড়িয়ে আছে শুধু খুঁটি।

বুধবার সকালে সিলিং ফ্যানের আগুনে ঘর-আসবাবপত্র সবই হারান দিনমজুর আলমগীর। ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন আলম ওই উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের পুরাতন চড়াইকোল গ্রামের বাসিন্দা।

মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আলমগীর এখন দিশেহারা। পরিবার নিয়ে কী করবেন? কোথায় উঠবেন? ভেবে পাচ্ছেন না। নতুন করে ঘর তুলবেন- সে সামর্থ্যও তার নেই। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় বোধ করছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ ঘরের সিলিং ফ্যানে বিকট শব্দ হয়। ঘরের লোকজন ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় ফ্যানে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তেই সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে সে আগুন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগে যায়। এমনকি ফায়ার সার্ভিসের ফোন দিলেও তারা আসতে দেরি করে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়ির চারটি ঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন আলম বলেন, আগুন দেখে পরিবারের সবাইকে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে আসি। কিন্তু কোনো মালামাল বের করতে পারিনি। আমার এতদিনের জমানো সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি।

কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় আমরা পথ ভুল করেছিলাম। এ কারণেই আমাদের ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আলামত দেখে বোঝা যাচ্ছে।

নন্দলালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলী বলেন, স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস সময়মতো এলে অন্তত ক্ষতির পরিমাণ কম হতো। ক্ষতিগ্রস্ত আলমগীর হোসেনের পরিবারকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর