সচল সড়ক করলেন অচল, খুলে নিলেন কালভার্টের ইট-রড

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৭ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

সচল সড়ক করলেন অচল, খুলে নিলেন কালভার্টের ইট-রড

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৫৮ ৫ মে ২০২১  

কালভার্টের ইট-রড খুলে রাখা হয়েছে সড়কে

কালভার্টের ইট-রড খুলে রাখা হয়েছে সড়কে

জরাজীর্ণ হলেও পুরনো বক্স কালভার্টটি দিয়েই চলাচল করতেন কয়েক গ্রামের মানুষ। যাতায়াত ছিল বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের। কিন্তু সম্প্রতি একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণের টেন্ডার হয়। আর এ সুযোগে কালভার্টের ইট-রড খুলে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ফলে সচল সড়কটি হয়ে গেল অচল।

ঠিক কবে নাগাদ নতুন কালভার্টটির কাজ শুরু করা হবে তাও নিশ্চিত নয়। এর আগেই কালভার্টটির সব খুলে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ব্যাপারী। চলাচলের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও করা হয়নি। সড়কটি বর্তমানে বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামবাসী।

অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন ব্যাপারী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার দুপুরে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ উদমারার ম্যানেজার রোড এলাকায় শ্রমিক দিয়ে কালভার্টের ইট-রড খুলে নেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বক্স কালভার্টটির ইট খুলে পরিষ্কার করছেন শ্রমিক রুহুল আমিন, আনোয়ার হোসেন ও মুরাদ হোসেন। এ কাজের জন্য তাদের নিয়োজিত করেছেন চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ব্যাপারী। আগের দিন রডগুলো খুলে চেয়ারম্যানের ছেলের নির্মাণাধীন বিএডিসির পাম্প হাউসের স্থানে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তারা।

ইটগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে সড়কে রাখা আছে। সড়কটি এখন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ সড়কে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা মানুষও চলাচল করতে পারছেন না। কবে নাগাদ সড়কটি স্বাভাবিক হবে তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি।

দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, পুরাতন অকেজো রডগুলো ছেলের কাজের স্থানে এনে শ্রমিকরা মজুত করেছেন। ইটগুলো পরিষ্কার করে এনে সড়ক মেরামত কাজে লাগানো হবে। এগুলোর দাম বাবদ ঠিকাদারকে টাকা দেয়ারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। লোকজনের চলাচলে গাছ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

ঠিকাদার নূরে হাওলাদার ঝিকু বলেন, বারবার নিষেধ সত্ত্বেও চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ইট-রড নিয়ে যাচ্ছেন। নতুন কাজটি করার জন্য এখনই আমাদের প্রস্তুতি নেই। নিজের স্বার্থে চেয়ারম্যান সড়কটি বিচ্ছিন্ন করে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছেন। তিনি ঠিকাদারের প্রাপ্য পুরাতন রড-ইট জোর করে নিয়ে যাচ্ছেন।

এলজিইডির উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, বক্স কালভার্টটি এক লাখ ২০ হাজার টাকায় সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি ইট-রড খুলে নিয়ে কাজটি ভালো করেননি। এগুলোর সম্পূর্ণ এখতিয়ার ঠিকাদারের। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর