ফেনীতে ভার্চুয়াল আদালতে ১৬১ আসামির জামিন

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

ফেনীতে ভার্চুয়াল আদালতে ১৬১ আসামির জামিন

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২২ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ১৮:২৩ ৪ মে ২০২১

ফেনী জেলা জজ আদালত

ফেনী জেলা জজ আদালত

ফেনীর আদালতে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল শুনানিতে ১৬১ আসামি জামিন লাভ করেছেন। ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১৮ জন আসামির জামিন আবেদন শুনানি শেষে ২২০ জনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত। ফেনী জেলা জজ আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভার্চুয়াল আদালতে এসব জামিন শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। 

তবে আইনজীবীদের দাবি, যতদ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতা আরোপ করে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক না করা হলে একদিকে মামলার জট বাঁধবে অন্যদিকে মানুষ ন্যায় বিচার বঞ্চিত হবে।

আদালতের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, লকডাউন পরিস্থিতিতে ১৩ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুধুমাত্র কারাগারে থাকা আসামীদের জরুরী জামিন শুনানি ছাড়া বাকী সব কার্যক্রম স্থগিত করে নির্দেশনা জারি করা হয়। সেই থেকে ফেনীতে অদ্যবধি ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা ও দায়রা জর্জ ড. বেগম জেবুননেছার ভার্চুয়াল আদালতে এ সময়ের মধ্যে ১২৫ জন আসামীর জামিন শুনানী নিষ্পত্তি করা হয়। এদের মধ্যে ৫৩ জনের জামিন মঞ্জুর করে বাকী ৭২ আসামির আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত।

জেলা নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ ওসমান হায়দার ১৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ জন আসামির জামিন শুনানি করে ১৪ জনের আবেদন মঞ্জুর ও ২৬ জনের নামঞ্জুর করেন। একইভাবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের কয়েকটি আদালতে উল্লেখিত সময়ে ২১৬ জনের জামিন শুনানি করা হয়। এদের মধ্যে ৯৪ জনের জামিন মঞ্জুর করে বাকী ১২২ জনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

মো. শাহ আলম নামের সোনাগাজী উপজেলার এক ব্যক্তি জানান, তিনি একটি হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী। লকডাউন শেষ হলেই তিনি প্রবাসে চলে যাবেন। হত্যা মামলাটিতে তার সাক্ষ্য না হলে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় বিচার বঞ্চিত হবেন। এপ্রিল মাসে সাক্ষ্যগ্রহনের তারিখ থাকায় সবাই আশা করেছিলো তার সাক্ষ্যটা প্রবাসে যাওয়ার আগেই হয়ে যাবে। কিন্তুু লকডাউনে ভার্চুয়াল আদালতে সাক্ষ্য গ্রহন বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি প্রবাসে চলে গেলে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আটকে যাবে। বিচারপ্রার্থীরা অন্তত ২ থেকে ৩ বছর ঘুরতে হবে। তার সাক্ষ্যছাড়া মামলার বাদী ন্যায় বিচার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নুর হোসেন জানান, লকডাউনের পর থেকে আদালতে শুধুমাত্র কারাগারে থাকা আসামিদের জামিন শুনানি চলছে। অন্য সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে একদিকে বিচারপ্রার্থীদের বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে মামলার জটও বাড়ছে। যদিও আদালতের সেবাগ্রহীতা থেকে শুরু করে সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল চালু হয়েছে। কিন্তু এর দীর্ঘসূত্রিতায় বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে ভোগান্তিতে ফেলবে। তাই যতদ্রুত সম্ভব ভার্চুয়াল আদালত বন্ধ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত আদালত চালুর দাবি জানান আইনজীবী সমিতির শীর্ষ এ নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে