পাতকুয়ার সুফল পাচ্ছেন না কৃষক 

ঢাকা, শনিবার   ০৮ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৫ ১৪২৮,   ২৫ রমজান ১৪৪২

পাতকুয়ার সুফল পাচ্ছেন না কৃষক 

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৬ ২৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১২:০৪ ২৩ এপ্রিল ২০২১

পাতকুয়ার সুফল পাচ্ছেন না কৃষক 

পাতকুয়ার সুফল পাচ্ছেন না কৃষক 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাবিটার অর্থায়নে কৃষকের সেচের জন্য নির্মিত সৌরচালিত ২৩টি পাতকুয়া (ডাগওয়েল) রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় কোনো কাজে আসছে না। ফলে গচ্ছা যাচ্ছে এসব পাতকুয়া নির্মাণের টাকা। এতে সুফল পাচ্ছেন না ওই এলাকার কৃষকরা। 

জানা গেছে, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের এমপি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী কৃষকের সেচ সুবিধার কথা চিন্তা করে তার নির্বাচনী এলাকা নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত তিন বছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন ২৩টি ড্রাগওয়াল বা পাতকোয়া। উদ্দেশ্য ছিলো, বিনা টাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের সবজি ও ইরি ধান চাষে সেচ দেয়া। 

সৌর বিদ্যুত চালিত এ পাতকুয়াগুলো (ডাগওয়েল) নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প। আর কৃষি বিভাগ সেচ কাজের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে আসছিল। কিন্তু এসব পাতকুয়া শুরুতে কিছু পানি ওঠলেও বছর যেতে না যেতেই পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। 

নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও গ্রামে নির্মিত পাতকুয়া

এদিকে, প্রতিটি পাতকুয়ার পানি সুবিধা পাওয়ার জন্য ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কৃষক গ্রুপ করে দেয়া হয়। মাসিক স্বল্প টাকা জমা করে পরবর্তীতে পাতকুয়ার সমস্যা দেখা দিলে সারিয়ে নেয়ার জন্য। কিন্তু পাতকুয়ার পানি ৪০ জন তো দূরে থাক দুই জন কৃষকের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে না। টাকা দিয়ে সেচের পানি দিয়ে ফসল করতে হচ্ছে তাদের। 

নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও গ্রামে নির্মিত পাতকুয়ার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ওমর আলী বলেন, ‘মেশিনডা করার পরে কয়েক দিন এক-দেড় ঘণ্টা করে চালানো হয়েছে। চালানোর পর থেকে পরিষ্কার পানি আসে না, ঘোলা পানির সঙ্গে কাদা মাটি আসে। কাদা মাটির আসার পর থেকে যে বন্ধ হইল, বন্ধই রয়েছে। পরে নালিতাবাড়ী বিএডিসি’র যে অফিসার আছে, তারে জানাইছি। তারা আইসে দেইখ্যা বলছে, ব্যবস্থা নিতাছে। আইজও পর্যন্ত এডার পানি ব্যবহার করতে পারি নি।’ 

নকলা উপজেলার রামপুড় গ্রামের পাতকুয়া কৃষক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এখানে ৪১ জনকে পানি দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পানি তো ঠিকমতো ওঠেনা। কৃষকদের পানি দেওন যায় না। তাই কেউ চাঁদাও দেয় না। যে উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছিল, তা পুরণ হয় নাই। দেখাশুনার কেউ না থাকায় এটা আস্তে আস্তে শেষ হইয়া যাইতাছে।’

নকলা উপজেলার রামপুড় গ্রামের পাতকুয়া

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (ক্ষুদ্র সেচ) শেরপুরের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী আল বাকী বলেন, এ পাতকুয়াগুলোর টেকনিক্যাল কাজগুলো আমরা বাস্তবায়ন করেছি। সৌর প্যানেল ব্যাটারি সবই দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে। এটির রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব আমাদের নেই। এ ছাড়া এর অর্থায়নও আমরা করি নি। এগুলোর জন্য আমাদের কোনো বাজেটও নেই। 

কাজেই এ বিষয়ে কিছু করার নেই। ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা লাভের পরিবর্তে লোকসানই হচ্ছে। তবে প্রজেক্টি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয় কৃষকদের। 

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলছেন, সিস্টেমটা ভালো। কিন্তু ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকায় এটি কাজে আসছে না। রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এখনো পাতকুয়াগুলো সচল করা সম্ভব। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে