স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়লেন স্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়লেন স্ত্রী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৩ ২১ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৬ ২৫ এপ্রিল ২০২১

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ইদ্রিস সরদারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় টেবিলের ওপর লুটিয়ে পড়েন

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ইদ্রিস সরদারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় টেবিলের ওপর লুটিয়ে পড়েন

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ইদ্রিস সরদারকে হত্যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের রুদ্রকর গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। 

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ইদ্রিস সরদারের স্ত্রী পেয়ারা বেগম স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় টেবিলের ওপর লুটিয়ে পড়েন। 

পেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে স্থানীয় সন্ত্রাসী রুবেল, সাহেব আলী, জুলহাস, রানা'রা হত্যা করে। স্বামী হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। এরপরই টেবিলের ওপর লুটিয়ে পড়েন তিনি।

ইদ্রিস সরদারের মেয়ে মামলার বাদী রোজিনা খানম বলেন, ২০২০ সালের ১ জুন আমার ভাই রাজন সরদারকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। সেই বিচার পাইনি। বিচার না হওয়ায় এক বছর পর আবার আমার বাবাকে হত্যা করল। গত ১৮ এপ্রিল বিকেলে আমার ছোট ভাই শাওন সরদার প্রতিবেশী ইসমাইল ঢালীর পুকুর পাড়ের গর্তে মাছরাঙা পাখির ছানা খুঁজতে যায়।

এ সময় আমাদের প্রতিবেশী ইউসুফ আলী সরদারের ছেলে রুবেল সরদার শাওনকে মারধর করে। এরপর আমার বাবা ইদ্রিস সরদার ও মা পেয়ারা বেগম এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে রুবেলের বাড়িতে যান। তখন রুবেল সরদার, তার স্ত্রী সানজিদা বেগম, বোন জামাই সাহেব আলী শিকদার, ভাইগনা জুলহাস শিকদার, রানা শিকদার, বড় বোন জরিনা বেগম মাটিতে ফেলে আমার বাবাকে ঘুষি দিতে থাকেন।

এতে আমার বাবা জ্ঞান হারান। আমরা সন্ধ্যায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে বাবা মারা যান। কিন্তু চারদিন হয়ে গেলেও আমার বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। রুবেলের পরিবার মামলা তুলতে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।

এ সময় ইদ্রিস সরদারের মেয়ে রাবেয়া বেগম, ছেলে রাসেল সরদার, রাকিব সরদার, শাওন সরদার উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অভিযুক্ত রুবেল সরদারের চাচাতো ভাই রোকন সরদার বলেন, শাওন সরদারকে মারধর করেছে এটা সত্য। কিন্তু ইদ্রিস সরদারকে কিলঘুষি দেননি রুবেলরা। ইদ্রিস নিজের বুকে নিজে ঘুষি দিয়ে মারা গেছেন। এখন রুবেলের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করছে। 

গত রোববার বিকেলে ইদ্রিস সরদারের ছেলে শাওন সরদার প্রতিবেশী ইসমাইল ঢালীর পুকুর পাড়ের গর্তে মাছরাঙা পাখির ছানা খুঁজতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী ইউসুফ আলী সরদারের ছেলে রুবেল সরদার শাওনকে মারধর করে। এরপর শাওনের বাবা ইদ্রিস সরদার ও মা পেয়ারা বেগম এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে রুবেলের বাড়িতে যান। তখন রুবেল সরদার ও তার পরিবার ঘুষি দিতে থাকেন।

এতে ইদ্রিস আহত হয়ে জ্ঞান হারান। পরে পরিবার তাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইদ্রিস সরদার ওই গ্রামের মকদম আলী সরদারের ছেলে। তিনি একজন কৃষক ছিলেন।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ