পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কিত কৃষক

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কিত কৃষক

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৩ ১৯ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৯ ১৯ এপ্রিল ২০২১

কৃষকের ঘামের ফসল সোনালি ধান

কৃষকের ঘামের ফসল সোনালি ধান

গাজীপুরের কালীগঞ্জে এখন ধান কাটার মৌসুম। উপজেলার ফসলের মাঠ জুড়ে পাকা সোনালি ধানের মৌ মৌ গন্ধ। পুরো ৫ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে কৃষকেরা এখন সেই ধান ঘরে তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত। পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে মাঠেই ঝড়ে পড়ছে কৃষকের ঘামের ফসল সোনালি ধান।

সারাদেশ করোনায় আক্রান্ত। প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ, সেই সঙ্গে মৃত্যু সংখ্যা। সরকার এই অবস্থা ঠেকানোর জন্য লকডাউনের আওতায় নিয়ে এসেছে পুরো দেশকে। কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। আর তাই উত্তরবঙ্গ থেকে ধান কাটার কোনো শ্রমিক এই অঞ্চলে আসতে পারছেনা। ফলে কৃষকেরা পড়েছে বিপাকে।

উপজেলার বিল বেলাই, ভাটিরা বিল এবং আশেপাশের ধানি জমি ঘুরে দেখা যায় ধান পেকে কাটার উপযোগী হলেও তা এখনো মাঠে দোল খাচ্ছে। কিছুদিন আগে গরম বাতাসে এবং ঝড় ক্ষতির পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। এই মুহূর্তে ধানগুলো কাটাতে না পারলে ঝড় এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক মো. মিরাজ জানান, গত বছরও এই সময়টাতে লকডাউনের কারণে ধান কাটার শ্রমিক আসতে পারেনি। ফলে বিঘা প্রতি প্রায় দশ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে ধান কাটার জন্য। এলাকার কৃষকেরা গ্রুপ করে একজন আরেকজনের ধান কেটে দিয়েছে। এবারও একইভাবে ধান কাটতে হবে, দেরি হলে সামান্য ঝড়েই ধান মাটিতে পড়ে যাবে। এই শঙ্কায় তাড়াহুড়ো করে ধান কাটতে গিয়ে ধান গাছের খড় আনতে পারছেন না। ফলে গবাদি পশুর খাবার নিয়েও থাকতে হচ্ছে চিন্তায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম বলেন, কৃষক শ্রমিকদের গণপরিবহনে কোনো বাধা নেই। সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে তারা চাইলে কাজের জন্য যে কোনো স্থানে যেতে পারে। এখন কেউ যদি না আসে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ধান কাটার ভর্তুকির ব্যাপারে সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে