বিয়ের ১৬ দিনেই হলেন বিধবা, বিচার চেয়ে হারালেন জ্ঞান

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

বিয়ের ১৬ দিনেই হলেন বিধবা, বিচার চেয়ে হারালেন জ্ঞান

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ১৯ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:৩৯ ১৯ এপ্রিল ২০২১

জ্ঞান হারানোর পর নিয়ে যাওয়া হয় নববধূ নিশি আক্তারকে

জ্ঞান হারানোর পর নিয়ে যাওয়া হয় নববধূ নিশি আক্তারকে

শরীয়তপুরে মো. দাদন খলিফা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ সময় স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নিহতের স্ত্রী নিশি আক্তার।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

জ্ঞান হারানোর আগে নিশি বলেন, ৩১ মার্চ দাদনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের ১৬ দিন পর আমার স্বামীকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

নিহত দাদনের বাবা সেকান্দার খলিফা বলেন, ইদ্রিস খান ও তার তিন ভাই ১৯৯৭ সালে আমার বোনকে হত্যা করে। সেই বিচার পাইনি। বিচার না হওয়ায় তারা ২৪ বছর পর আমার ছেলেকেও হত্যা করল। ককটেল ফাটিয়ে ইদ্রিস খান আমাদের সামনে থেকে ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। ৩০-৩৫ জন মিলে আমার ছেলেকে কুপিয়ে ফেলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে ছিলাম। দুই মাস আগে ফিরে এসেছে। ২০ দিন আগে তাকে বিয়ে দিয়েছি, করোনার কারণে এখনো বউ বাড়িতে তুলে আনতে পারিনি। স্বামীর ঘরে আসার আগেই মেয়েটি বিধবা হলো।

শৌলপাড়া ইউনিয়নের মেম্বার হেনা পারভিন বলেন, দাদনকে নিঃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এসকান্দার সরদার, বাচ্চু মাতব্বর, আবুল খান, শুক্কুর ব্যাপারী, রশিদ খলিফা, আজিত ফলিফাগং। পুলিশ তাদের নামে মামলা নিতে গড়িমসি করছে।

মানববন্ধনে নিহত দাদন খলিফার মা আমেনা বেগম, চাচা রাজ্জাক খলিফা, জুলহাস খলিফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুল হক ব্যাপারী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল হক খলিফা, শৌলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আখন্দ, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাজাহান খলিফাসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে ১৫ এপ্রিল রাতে মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর দাদন খলিফাকে তুলে নিয়ে যায় ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী। এরপর নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ওই সময় স্থানীয়রা ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় দাদনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর