কালের সাক্ষী বুড়িরহাট জামে মসজিদ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৪ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

কালের সাক্ষী বুড়িরহাট জামে মসজিদ

সোহাগী আক্তার নদী, শরীয়তপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৩ ১৮ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৫:৫০ ১৮ এপ্রিল ২০২১

কালের সাক্ষী বুড়িরহাট জামে মসজিদ

কালের সাক্ষী বুড়িরহাট জামে মসজিদ

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত বুড়িরহাট ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের ধারক ও বাহক বুড়িরহাট ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হয়ে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। 

বৃহত্তর ফরিদপুরের ভেতর এটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অন্যতম নির্দশন। এটি শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউপির বুড়িরহাট বাজারে অবস্থিত। 

উপমহাদেশে যখন বঙ্গভঙ্গ সম্পূর্ণ হয় তখন মুসলমানদের মধ্যে একটা উৎসাহ উদ্দীপনা থেকে ১৯০৭ সালে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির প্রথম  গোলপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। পরে টিন দিয়ে এবং ১৯৩৫ সালে মসজিদটির পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। 

১৯০৭ সালে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির প্রথম  গোলপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। এরপর টিন দিয়ে এবং ১৯৩৫ সালে মসজিদটির পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। 

স্থানীয় একাব্বর হাওলাদার, মমতাজউদ্দিন হাওলাদার, মোবারক মুন্সী, আফতাব উদ্দিন মুন্সীসহ কয়েকজন ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতিতে জানা যায়, হিন্দুস্থানের টিপু সুলতানের বাড়ির মসজিদের নকশাতেই এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৮৬ বছর আগে এ মসজিদটি সম্প্রসারণ করে আধুনিক রূপ দেন।

মসজিদের ভেতরের দেয়ালে সিরামিক চূর্ন দিয়ে লতাপাতা আঁকা অসংখ্য রঙিন নকশা মোজাইক করা প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন পরিলক্ষিত হয় মসজিদটিতে। মসজিদটি দেয়ালের বাইরের অংশেও রয়েছে সিমেন্ট আর সিরামিক ভাঙা টোরাকাটা নকশা।

মসজিদটি প্রায় ৫ কাঠা জমির ওপরে অবস্থিত। সংস্কারের আগে মসজিদটি ছিল আয়তকার। তখন এর দৈর্ঘ্য ছিল ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ছিল ৩০ ফুট। কিন্তু সংস্কারের পর মসজিদটির আকার রীতিমতো পরিবর্তিত হয়ে যায়।

মসজিদের ভেতরের দেয়ালে সিরামিক চূর্ন দিয়ে লতাপাতা আঁকা অসংখ্য রঙিন নকশা মোজাইক করা প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন পরিলক্ষিত হয় মসজিদটিতে।

বর্তমানে এটি একটি বর্গাকৃতির মসজিদ এবং সাধারণ ত্রিশ গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকৃতির মোঘল মসজিদের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সংস্কারের পর মসজিদের প্রাচীনত্ব আদলে এর চাকচিক্য ও সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক থেকে সুন্দর কারুকার্যময় এ মসজিদের এরিয়ায় ঢুকতে পূর্বে ও দক্ষিণে দুইটি প্রবেশপথ রয়েছে।

মসজদিটিতে ঢুকতে তিনটি প্রবেশ পথ এবং ৬টি জানালা রয়েছে। ২৪টি ছোট ও ৬টি বড় গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া মসজিদের পূর্ব দিকে বড় একটি মিনার রয়েছে। যার উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মসজিদটির ১০ ফুট উচ্চতা এবং ৫ ফুট প্রস্থের মেহরাব রাখার যায়গা দেখতে আকর্ষণীয় এবং সুপ্রাচীন। মেহরাবে বসে ইমাম খুতবা পাঠ করেন।

সংস্কারের পর মসজিদের প্রাচীনত্ব আদলে এর চাকচিক্য ও সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে।

মসজিদ নির্মাণে চুন, সুরকি, সাদা সিমেন্ট, সিরামিক ভাঙা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। এ মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশেই রয়েছে বাঁধানো ঘাট।

ওয়াকফকৃত সম্পদেই মসজিদ ও পাশে অবস্থিত  ঈদগাহ, পশ্চিমে রয়েছে মসজিদের নামে মার্কেট, পূর্বপাশে মসজিদের ইমামের থাকার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ চলে গেলে রয়েছে জেনারেটরের ব্যবস্থা। 

সুপ্রাচীন এ মসজিদটিতে একসঙ্গে এক হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাচীন আমলের মানুষের ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামি ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন ধারণকারী বুড়িরহাট ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদটি ইসলামী ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী এবং সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে