বোরো চাষিদের ঘরে সুদিনের বাতাস

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

বোরো চাষিদের ঘরে সুদিনের বাতাস

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৬ ১৮ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৭:১৯ ১৮ এপ্রিল ২০২১

কুয়াকাটায় বিস্তীর্ণ মাঠে দোল খাচ্ছে পাকা বোরো ধান

কুয়াকাটায় বিস্তীর্ণ মাঠে দোল খাচ্ছে পাকা বোরো ধান

বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শুধুই পাকা বোরো ধান। সোনালি ধানের পাকা শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। চারদিকে পাকা ধানের গন্ধ। বোরো চাষিদের ঘরে বইছে সুদিনের বাতাস। এমন দৃশ্য দেখা যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায়।

ভোরের সূর্য উঁকি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাষি ও শ্রমিকরা দল বেঁধে কাস্তে হাতে নেমে পড়ছেন ধান কাটতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস ধান কাটছেন তারা। দম ফেলার ফুরসত নেই কারো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একদল শ্রমিক ধান কেটে আঁটি বেঁধে রাখছেন ক্ষেতের মাঝে। আরেক দল সেই আঁটি মাথায় কিংবা গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়িতেও চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এ যেন বিশাল কর্মযজ্ঞ। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে ধান মাড়াই, সিদ্ধ, শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আরো দেখা গেছে, অধিকাংশ বাড়িতে ব্যাপারীরা গিয়ে ধান কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখছেন পরবর্তীতে ধান কেনার জন্য। বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেয়ে খুশি উপকূলীয় অঞ্চল কুয়াকাটার চাষিরা। কৃষকদের এমন ব্যস্ততা চলবে আগামী মাস পর্যন্ত।

সোনালি ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকরা

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের কৃষকরা পানির অভাবে বোরো চাষে তেমন আগ্রহ দেখাত না। গত কয়েক বছর তাদের মাঝে বড় পরিবর্তন এসেছে। বোরো চাষে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে তাদের। এবার বাম্পার ফলন ও ভালো দামের কারণে চাষিদের আগ্রহ আরো বেড়েছে।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আদমপুরের বোরো চাষি মো. আল-আমিন বলেন, এবার বোরো ধান চাষ করে ভালো লাভ হয়েছে। পানির অভাবে খরচটা একটু বেশি হলেও বাজারে ভালো দাম থাকায় খরচ উঠে গেছে।

দৌলতপুরের মো. ইউসুফ বলেন, এক সময় আমরা শুধু আমন ধান চাষ করতাম। এখন বছরে তিনবার ধান উৎপাদন করার পরিকল্পনা করছি। ধানের বাজার বর্তমানে চড়া। সার ও পানির সমস্যা সমাধান হলে আমরা আরো লাভবান হবো।

কুয়াকাটার হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে জিরাশাইল ধান প্রতি মণ ১০০০ টাকা এবং বি আর ২৮ ধান ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, এ উপজেলায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছিল। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চার হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ দশমিক ৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন