চাল কেলেঙ্কারির আসামি প্রকাশ্যে, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

চাল কেলেঙ্কারির আসামি প্রকাশ্যে, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ১৭ এপ্রিল ২০২১  

নবাব আলী ও আব্দুল হাদি (ফাইল ছবি)

নবাব আলী ও আব্দুল হাদি (ফাইল ছবি)

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কেলেঙ্কারির অভিযোগে করা মামলায় ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আসামি দু’জন এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার মেসার্স তিন ভাই ট্রেডার্স অ্যান্ড সেমি অটোরাইস মিলের মালিক বেড়েরবাড়ি গ্রামের নবাব আলী ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রয়ের পরিবেশক আব্দুল হাদি মণ্ডল।  

অভিযোগ রয়েছে, মামলার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। মামলার পর থেকে আব্দুল হাদি পলাতক থাকলেও প্রকাশ্যে রয়েছেন নবাব আলী। নবাব আলী নিজ বাড়িতে থাকলেও পুলিশ তাকে ধরছে না। এমনকি তিনি স্থানীয়দের বলছেন, ‘পুলিশকে টাকা দিয়েছি, পুলিশ আমাকে ধরবে না’।

স্থানীয়রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবাব আলী প্রায় এক যুগ ধরে অবৈধ বালুর ব্যবসা করে আসছেন। তবে বর্তমানে তার এ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা রয়ে গেছে নবাব আলীর। নবাব এখনো থানায় নিয়মিত মাসোয়ারা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে মামলার পরেও পুলিশ তাকে ধরছে না।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেড়েবাড়ির বাবু বাজার এলাকায় বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সুবিধাভোগীদের কাছে দশ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি করছিলেন আব্দুল হাদি।

ওই সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাদির কাছ থেকে অবৈধভাবে রাখা ২৩৬টি কার্ড জব্দ করেন। একই স্থানে নবাব আলীর গুদামে খাদ্য অধিদফতরের বস্তায় প্রায় ৫০০ মণ চাল মজুদ রাখা হয়। এরমধ্যে থেকে অভিযানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০০ মণ (৫১ বস্তা) চাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর ওই দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

অভিযুক্ত নবাব আলী বলেন, আমি এই মামলায় জামিনে নেই। আশায় আছি মামলার তদন্ত শেষে আমার নাম থাকবে না। কারণ আমি চাল কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

নবাব বলেন, আমি বাড়িতে থাকি না। মামলার পর দু’মাস ঢাকাতে পলাতক ছিলাম। এরপর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে আসছি। তবে জামিনের জন্য জোরালো চেষ্টা করিনি।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই রিপন মিয়া জানান, চার্জশিট দেয়ার আগে আসামিকে ধরার কোনো সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, নবাব আলী বাড়িতে থাকেন না, আমরা কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাকে ধরতে পারিনি।

নবাব আলীর কাছ থেকে পুলিশের অনৈতিক সুবিধা নেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম