খুমেকেই হচ্ছে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

খুমেকেই হচ্ছে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ১৭ এপ্রিল ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিন যতই যাচ্ছে খুলনায় বেড়ে চলছে করোনা আক্রান্তের হার। আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ার ফলে হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়ানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বসে নেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) কর্তৃপক্ষও।

হাসপাতালের নিচতলায় আগে যেখানে অর্থোপেডিক ওয়ার্ড ছিল সেখানে ৬০টিরও অধিক বেড সম্বলিত করোনা হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বর্তমানের করোনা হাসপাতাল সংলগ্ন খুমেক হাসপাতালের সাবেক গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগকেও করোনা হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিটের আওতায় আনা হতে পারে এমন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আগে থেকে সংস্কার কাজ চলছে সাবেক গ্যাস্ট্রোলজি ওয়ার্ডের। এছাড়া গত তিনদিন ধরে সাবেক অর্থোপেডিক ওয়ার্ডটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। সেখানে রক্ষিত স্ক্র্যাব(অকেজো মালামাল) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে জনবল প্রেষণে আনার জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। অক্সিজেন লাইন স্থাপনেরও পরিকল্পনা নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে হাসপাতাল অভ্যন্তরের আইসিইউ ভবনের নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে একশ’ বেডের করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম চললেও পুরোপুরি একশ’ বেডের সাপোর্ট দেয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে আটটি রয়েছে আইসিইউ বেড। দ্বিতীয় তলায় অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে আরো অন্তত: ৩০টি আইসিইউ বেড করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু রোগীর হার যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।

গত বছর খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে একশ’ বেডের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা হলেও এ বছর তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ডায়াবেটিক সমিতিও সেখানে আগের মতো তাদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। তাছাড়া এক হাসপাতালের জনবল দিয়ে অন্য একটি হাসপাতাল পরিচালনা করা অনেকটা কঠিন। এজন্য খুমেক হাসপাতালের বর্ধিত অংশে অর্থোপেডিক ওয়ার্ড স্থানান্তর করার ফলে নিচতলার ফাঁকা জায়গাকেই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

যদিও এর আগে ওই দু’টি ওয়ার্ডে নিউরো সার্জারি ও ইউরোলজী বিভাগ চালুর পকিল্পনা নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় ভিন্ন পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। তবে বর্তমানে ওই দুটি ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি বর্তমানের ১০০ বেডের হাসপাতাল ভবনের (নবনির্মিত আইসিইউ ভবন) দ্বিতীয় তলায় বেড স্থাপন ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক কার্যক্রম চলছে।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ও করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, বর্তমানে রোগীর চাপ এতোই বেড়েছে যে, ট্রলিতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের শ্বশুরকে একদিন ট্রলিতে রেখে চিকিৎসা দেয়ার পর বেড দেয়া সম্ভব হয়। হাসপাতালের উপ-পরিচালকের এক আত্মীয়কে রাখা হয় দ্বিতীয় তলার অক্সিজেনবিহীন একটি কক্ষে। নিউরো মেডিসিন বিভাগের একজন অধ্যাপকের ভাইকে পর্যন্ত অক্সিজেন সাপোর্ট না দিয়েই একদিন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো চিকিৎসক যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে তারও সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না হয়তো।

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা ইউনিটের বেড সংখ্যা বাড়াতে গেলে শুধু বেড বা অক্সিজেন সরবরাহ করলেই হয়না। এর সঙ্গে আরো অনেক কিছু জড়িত আছে। ভেন্টিলেটর চালাতে গেলে এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ, মনিটর, সাকার মেশিন, বেড, সাইড ট্রলি, এসি ইত্যাদিসহ অন্তত ৭/৮ প্রকারের আইটেম লাগে। এছাড়া একটি এসি নষ্ট হলে বিকল্প আরো ২/১টি রাখতে হয়। সর্বোপরি প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। সব মিলিয়ে একটি বেডের জন্য কমপক্ষে তিন লাখ টাকার বাজেট প্রয়োজন হয়।

করোনা হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট সম্পর্কে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ১০০ বেডের করোনা হাসপাতালটি আইসিইউ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। আরো ৫০ বেডের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এরমধ্যেই হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এখন অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল প্রেষণে আনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। লজিস্টিক সাপোর্ট পেলেই আরো ৫০ বেডের প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খুমেক হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক কমিটির সমন্বয়কারী এবং খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আসলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের সাবেক অর্থোপেডিক ও গ্যাস্ট্রোলজি ওয়ার্ডকে নিয়ে যেমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে তেমনি বর্তমানের করোনা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলাকেই আগে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় শয্যা সংখ্যা স্থাপনের পরই পরবর্তী স্থান নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া খুলনা জেনারেল হাসপাতালেও ৪০টি বেড সম্বলিত একটি করোনা ইউনিট আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। সম্ভব হলে সেখানেও জনবল পদায়ন করে করোনা ইউনিট চালু করা হবে। যা নিয়ে খুলনার সিভিল সার্জনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, জেনারেল হাসপাতালে যে ৪০ শয্যার করোনা ইউনিট করার কথা ছিল সেটি খুমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক করোনা কমিটির এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার আলোকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১৫ জন চিকিৎসক ও ৪০ জন নার্সসহ অন্যান্য জনবলও খুমেক হাসপাতালে পদায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুতরাং জেনারেল হাসপাতালে আর পৃথক করোনা ইউনিট করার প্রয়োজন হবে না। করোনার সব রোগীকে একই স্থানে অর্থাৎ খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটেই চিকিৎসা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম