সমালোচনা করে পোস্ট দেয়ায় পায়ের রগ কেটে দিল হেফাজত

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

সমালোচনা করে পোস্ট দেয়ায় পায়ের রগ কেটে দিল হেফাজত

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২২ ১৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৪:৫৬ ১৭ এপ্রিল ২০২১

পেকুয়া থানা- ফাইল ফটো

পেকুয়া থানা- ফাইল ফটো

হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডের ঘটনায় সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় সরওয়ার উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে মারধর শেষে পায়ের রগ কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গত ১২ এপ্রিল সকালে কক্সবাজারের পেকুয়ায় এ বর্বর হামলা চালানো হয়। আহত সরওয়ার উদ্দিনকে প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত সরওয়ার উদ্দিন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের সবজীবনপাড়ার মোহাম্মদ আলমের ছেলে। এ ঘটনায় সরওয়ার উদ্দিনের পক্ষে পরদিন পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে হেফাজতকর্মী ও সাবেক শিবির ক্যাডার মুবিনুল হক ও জালাল উদ্দিনকে। এই দুজনের বিরুদ্ধে নাশকতা এবং বন আইনেও মামলা রয়েছে।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট দেন সরওয়ার উদ্দিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে হত্যার উদ্দেশ্যে সরওয়ারের ওপর হামলা চালান সাবেক শিবির ক্যাডার মুবিনুল হক, জালাল উদ্দিনসহ একদল হেফাজতকর্মী। তারা লোহার রড দিয়ে সরওয়ারের শরীরে আঘাত করেন এবং তার ডান পায়ের রগ কেটে দেন।

আহত সরওয়ার উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফাঁসিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এরপর পাশেই মানিকের দোকানে নাশতা করতে যান। এ সময় দোকানের ভেতর বসে থাকা সাবেক শিবির ক্যাডার মুবিনুল হক ও জালালের নেতৃত্বে একদল হেফাজতকর্মী তাকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেন।

কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলম বলেন, বর্বর এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটি তদন্ত করতে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে মামলা দায়েরসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এইচএন