লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা বন্দর নগরী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁকা বন্দর নগরী

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫০ ১৫ এপ্রিল ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সরকার ঘোষিত আটদিনের সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম নগরজুড়ে দেখা গেছে সুনশান নিরবতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে দেখা যায়নি কাউকে। লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশও।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীর চেরাগী পাহাড়, জামালখান, চকবাজার, দুই নম্বর গেট, জিইসির মোড়, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।

লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে মুভমেন্ট পাসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যেতে দেয়া হচ্ছে গন্তব্যে। অন্যথায় ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে আগত পথে। নেয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থাও।

জিইসির মোড় এলাকায় চেকপোস্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জুয়েল রানা বলেন, প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে চেক করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে কেউ রাস্তায় বেরিয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে বের হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মুভমেন্ট পাস সঙ্গে নিয়ে জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন, তাদের গন্তব্যে যেতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এর আগে সর্বাত্মক লকডাউন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে আটদিনের বিধি-নিষেধমূলক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এতে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া বন্ধ থাকবে শপিংমল।

অন্যদিকে, কাঁচাবাজারে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে। এ সময় অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে।

এছাড়া বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন: কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস