নদী শুকিয়ে খাঁ খাঁ, পানির জন্য হাহাকার 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

নদী শুকিয়ে খাঁ খাঁ, পানির জন্য হাহাকার 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৮ ১৫ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৫:৪১ ১৫ এপ্রিল ২০২১

পানির স্তর নেমে যাওয়ায় প্রায় সব নলকূপই হয়ে গেছে অকেজো। এক বালতি পানি তুলতে অনেক সময় লাগছে।

পানির স্তর নেমে যাওয়ায় প্রায় সব নলকূপই হয়ে গেছে অকেজো। এক বালতি পানি তুলতে অনেক সময় লাগছে।

পানির প্রবাহ নেই কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে। নদী শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। খরস্রোতা গড়াই এখন পরিণত হয়েছে ছোট খালে। 

গড়াই রেল ও সড়ক সেতুর অধিকাংশ পিলার চরে আটকে গেছে। নেমে গেছে পানির স্তর। এর প্রভাবে কুষ্টিয়া পৌর এলাকসহ আশপাশের অধিকাংশ নলকূপে উঠছে না পানি। পৌরসভার থেকে দেয়া সাপ্লাই পানির ও উৎপাদন কমে গেছে। পানির জন্য চলছে হাহাকার। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জীব-বৈচিত্র পড়েছে হুমকির মুখে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বেশ কয়েক মাস বৃষ্টি নেই। প্রাকৃতিক এই সমস্যা সমাধানে তাদের কিছুই করার নেই। তবে বৃষ্টি হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে।

জানা গেছে, কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকার ২১টি ওয়ার্ডে হোল্ডিং সংখ্যা ৩৭ হাজার। যার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নিজস্ব নলকূপ আছে। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় দেয়া হয়েছে আরো ৪ হাজার ৬০০ নলকূপ। পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে এসব এলাকার প্রায় সব নলকূপই হয়ে গেছে অকেজো। যেগুলো কাজ করছে সেগুলোতে পানি উঠছে অতি সামান্য। এক বালতি পানি তুলতে অনেক সময় লাগছে।

শহর সংলগ্ন হরিপুর ইউনিয়ন কুমারখালী উপজেলার পৌর এলাকা, কয়া, শিলাইদহ ইউনিয়নসহ নদী তীরবর্তী সব এলাকায় চলছে পানির জন্য হাহাকার। তবে গড়াই নদীর তীরবর্তী বসবাস করা মানুষের অবস্থা সব চাইতে বেশি খারাপ। পানির জন্য নদীর চরে হেঁটে যেতে হচ্ছে তাদের। এমন সংকটে এর আগে কখনো পড়েননি তারা।

নদীগুলোর নাব্যতা না থাকার পাশা পাশি পানির স্তর বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ ফিট নেমে যাওয়ায় হস্ত চালিত নলকূপে উঠছে না পানি। পানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা সক্রিয় না থাকায় বিপাকে পড়েছে জনজীবন। এমনকি পৌরসভার পক্ষ থেকে যে সাপ্লাই পানির ব্যবস্থা করা আছে তার উৎপাদন ও অনেক কম। এটি একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। বৃষ্টি শুরু হলেই এই সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে। 

পৌর এলাকার বাড়াদি গ্রামের রবিউল ইসলাম, মহিবুল ও নাহারূল এবং মঙ্গলবাড়িয়ার আ. হান্নান জানান, তারা পানির কষ্টে আছেন। মটর বসিয়েও পানি তেমন উঠছে না।

কুষ্টিয়া শহর ছাড়াও এর আশপাশ এলাকায়ও একই অবস্থা। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাউলের মোকাম খাজানগর কবুরহাট এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। 

মিল মালিক এফ এম এনামুল ও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল থেকে পানির পাম্প দিয়ে পানি উঠানো যাচ্ছে না। এছাড়াও পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পাম্পগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে যাচ্ছে। 

এদিকে পানির স্তর নেমে যাওয়ার পেছনে যত্রতত্র সাবমারসেবল (গভীর নলকূপ) পাম্পের ব্যবহারকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম। 

তিনি বলেন, শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানিও শুকিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে যেসব নলকূপের লেয়ার কম দেয়া সেসব নলকূপে পানি উঠছে না।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে