থানা ঘেরাও করে হেফাজতের তাণ্ডব, গ্রেফতার আরো ২৪

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

থানা ঘেরাও করে হেফাজতের তাণ্ডব, গ্রেফতার আরো ২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৮ ১২ এপ্রিল ২০২১  

গ্রেফতারদের একাংশ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

গ্রেফতারদের একাংশ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবকালে সদর মডেল থানায় ঘেরাও এবং শহরজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হেফাজতের আরো ২৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাদরাসার ছাত্র মাহাবুবুর রহমান। তিনি গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হামলার ঘটনায় জড়িত। গত রোববার বিকেলে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাহাবুবুর রহমান মোহাম্মদপুর গ্রামের শাহনেওয়াজের ছেলে ও পৌর এলাকার ভাদুঘর মাদরাসার কামিল বিভাগের ছাত্র।

সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে হেফাজতের আরো ২৪ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ১০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, তাণ্ডবের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর মডেল থানায় ৪৩টি, আশুগঞ্জ থানায় ৩টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি। ৪৯টি মামলায় এজাহার নামীয় ২৮৮ জনসহ অজ্ঞাত ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়। এসব মামলায় রোববার রাত পর্যন্ত ১০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পুলিশ ৮৪ জন, আশুগঞ্জ থানার পুলিশ ১৩ জন এবং সরাইল থানার পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। 

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. লোকমান হোসেন জানান, গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হামলা করে হেফাজতের সমর্থকরা। এ সময় উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় মাদরাসা ছাত্র মাহবুবুর রহমান। আহত হয়ে সে পালিয়ে কুমিল্লায় চিকিৎসা নেয়। পরে বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ওসি (ডিআইওয়ান) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে তাদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম