সালথায় তাণ্ডব: পাঁচ মামলা, গ্রেফতার ৭৮ 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

সালথায় তাণ্ডব: পাঁচ মামলা, গ্রেফতার ৭৮ 

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৩ ১২ এপ্রিল ২০২১  

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় এ পযর্ন্ত ৫টি মামলা হয়েছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় এ পযর্ন্ত ৫টি মামলা হয়েছে।

লকডাউনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় এ পযর্ন্ত ৫টি মামলা হয়েছে। মামলায় ২৬১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো প্রায় ৪-৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে সালথা থানার ওসি আশিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। 

৫ এপ্রিলের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই রাতের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে এসিল্যান্ডের গাড়ি থেকে নেমে মারধরের সত্যতা পায়নি জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটি।  

তাণ্ডবের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি’র অভিযান অব্যাহত থাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে উপজেলার ৮টি ইউপির প্রায় ৩০টি গ্রাম। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ফসলি মাঠে। সঠিক পরিচর্যা করতে না পাড়ায় কৃষি নির্ভর সালথা উপজেলায় এ বছর পাটের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। 

সোমবার গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এমন ধ্বংস যারা করেছে তাদের বিচার চাই। সরকারের কাছে দাবি জানাই নির্দোষ মানুষকে যেন তারা না ধরে। 

একজন নারী বলেন, আমার সংসারে রোজগারের কোনো মানুষ নেই। আমার স্বামী এসব কিছুই জানে না। তিনি অসুস্থ। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে আসছে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথা বলার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

এমন আরেকজন নারী বলেন, আমার ভাইয়ের ঘরে চাল নেই। সে মাঠে কাজ করতে গিয়েছিল। আমি ফোন করে সরে থাকতে বলায় সে জানায় আপা ঘরে চাল নেই। আমরা নির্দোষ, ধরে নিয়ে গেলে কি করব? ছেলেমেয়ে না খেয়ে আছে এর পর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, যারা দোষী সরকার তাদের কঠিন শাস্তি দিক। আর নির্দোষ মানুষগুলোকে যেন শাস্তি না দেয়। এমন আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারাও প্রকৃত অপরাধিদের শাস্তি দাবি করে নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি করেন। 

এদিকে এ তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে গাড়ি অথবা অচেনা লোক দেখলেই মানুষ ছোটাছুটি করছে। এছাড়া সালথা সদর বাজারসহ স্থানীয় হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে সেখানে নারী ও শিশুদের বাজার করতে দেখা গেছে। তাদের চোখে মুখেও দেখা গেছে ভয়ের ছাপ। 

অপরদিকে ধংসযজ্ঞ শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকার অবস্থা নীরব-নিস্তব্ধ। উপজেলা পরিষদজুড়ে এখন পড়ে আছে শুধুই ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন। টানা তিন ঘণ্টার তাণ্ডবে লণ্ড ভণ্ড উপজেলা পরিষদ এলাকা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। উপজেলা সদরের বাতাসে এখনো পোড়া গন্ধ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাঙা কাঁচ আর আসবাবপত্রের টুকরা পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। 

গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউপির ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান (হীরামণি)। এ সময় সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে লোকজনকে লাঠিপেটা করা হয়েছে ও হেফাজত নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মধ্যযুগীয় কায়দায় কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় জ্বালাও পোড়াও তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা তিন ঘণ্টা ব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

তাণ্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। এছাড়াও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটসাকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২ টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছুড়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে