পাচারকারীদের হাত থেকে যেভাবে পালিয়ে রক্ষা পেল কিশোরী 

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

পাচারকারীদের হাত থেকে যেভাবে পালিয়ে রক্ষা পেল কিশোরী 

শেরপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৮ ৮ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২০:৪৯ ৮ এপ্রিল ২০২১

শ্রীবরদী থানা

শ্রীবরদী থানা

মানব পাচারকারীদের হাত থেকে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেল শেরপুরের এক অসহায় কিশোরী। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রঞ্জু মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়ার চা বিক্রেতা মেয়ে। গ্রেফতার রঞ্জু একই উপজেলার চিংগুতার গ্রামের দুদা মিয়ার ছেলে। 

কিশোরীর স্বজনরা জানান, গত ২৭ মার্চ রাতে আসমাকে (ছদ্ম নাম) চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে পার্শ্ববর্তী মুদী দোকান মালিক মুছা মিয়ার ছেলে স্বাধীন ও কামারদহ গ্রামের সামছুল হকের ছেলে মোরাদুজ্জামান ফুডা নিয়ে যায়। এরপর  থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনার ৬ দিন পর আসমা হঠাৎ বাড়ি ফিরে আসে। 

কিশোরী জানায়, স্বাধীন ও ফুডা তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে বাসা থেকে নিয়ে যায়। পরে ময়মনসিংহ শহরের এক বাসায় তাকে রেখে দেয়। সেখানে থাকার ৬ দিন পর ওই বাসার মালিক ওদের (স্বাধীন ও ফুডা) গতিবিধি দেখে পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করেন। কিশোরীকে বিক্রি করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে আসমাকে জানান। পরে ওই কিশোরী বাসা থেকে পালিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ নিয়ে গ্রাম্য শালিসের আয়োজন হলে পুরো এলাকায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের অন্যতম সদস্য রঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতার করে। চক্রের মূল হোতা স্বাধীন ও ফুডা পলাতক রয়েছেন। 

কিশোরীর মা আতিয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। চা বিক্রি করে কোনো মতে সংসার চালাই। ওদের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস আমগোর নাই।’ 

এ ঘটনায় মানবপাচার আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন,  গ্রেফতার একজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি দুইজনকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান আছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে