বেলাবতে বহুমুখী সংকটে মুরগি খামারিরা 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ৩০ ১৪২৭,   ২৯ শা'বান ১৪৪২

বেলাবতে বহুমুখী সংকটে মুরগি খামারিরা 

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৬ ৭ এপ্রিল ২০২১  

চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক লেয়ার ও ব্রয়লার খামারিরা।

চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক লেয়ার ও ব্রয়লার খামারিরা।

ফিডের দাম বৃদ্ধি, তীব্র গরম, বার্ড ফ্লু, বাজার মূল্যের অবনতি, ডিমের কাঙ্ক্ষিত দাম নেই, লকডাউন এ ধরনের বহুমুখী সংকটে আছেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার খামারিরা। 

চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক লেয়ার ও ব্রয়লার খামারিরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফার্মের ডিম উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে সেই খরচ পোষানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। ফলে প্রতিনিয়ত লোকসানে হতাশ খামারিরা আশাহত হচ্ছেন। 

বর্তমান পাইকারী বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের বিশেষ করে ডিম ও ব্রয়লারের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না খামারিরা। লেয়ার খামারীরা বিপাকে পড়েছেন বেশি। দেশে খাদ্যের দামের পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করলে একটি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬ টাকার অধিক। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ জেলায় পাইকারী বাজারে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে ৬ টাকার নিচে। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রান্তিক খামারিদের। 

বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ ও পোলট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ এপ্রিল দেশের সব বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে খামারিরা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করেছেন ৫.৮০ টাকা থেকে ৬.৩০ টাকা দরে। এদিকে সর্বোচ্চ ৬.৫০ টাকা প্রতিপিস ডিম বিক্রি হয়েছে যশোর জেলায়। তবে লাল বাদামি ডিমের দামের তুলনায় সাদা ডিমের দাম আরও কম। পাইকারী পর্যায়ে প্রতি পিস সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫.২০ টাকা থেকে ৫.৭০ টাকা দরে। সর্বোচ্চ ৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে খুলনা জেলায়। 

চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক লেয়ার ও ব্রয়লার খামারিরা।

এদিকে ক্রমাগত আমদানি করা ফিডের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ফিডের কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিডের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে চাপে পড়েছে দেশের প্রান্তিক খামারিরা। 

খামারিরা জানিয়েছেন, যে হারে খাদ্যের দাম বেড়েছে সেই তুলনায় বাজারে ডিমের দাম পাওয়া যাচ্ছেনা ফলে প্রতিনিয়ত লোকসান গুণতে হচ্ছে। এতে করে খামার চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য বলেও তারা জানান। 

ভাবলার লেয়ার খামারি শংকর চন্দ্র দেবনাথ  বলেন, গত করোনাকালীন সময়ে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় লোকসানের পরিমাণ বেড়ে গেলে এই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এছাড়াও প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে গুনতে অনেক খামারি পোল্ট্রি ব্যবসা বাদ দিয়ে বিকল্প পথে রুজির ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

দাপুনিয়ার ব্রয়লার খামারি তোফায়েল আহমেদ আসাদ জানান, বার্ড ফ্লু সংক্রমণের কথা শুনে মানুষ আর ব্রয়লার মুরগি কিনছে না, পাইকারি দরও অনেক কম। উৎপাদন খরচের চেয়েও অনেক কম মূল্যে এসব বিক্রি করতে হচ্ছে। পথে বসার অবস্থায় পড়ে গেছি। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মতা ডা. মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ব্রয়লার ও লেয়ার খামারিদের সমস্যাগুলো আমরা শুনেছি। বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে সম্ভব সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করছি। আর ফিডের সাময়িক সংকট থাকার কথা নয় তবে যদি থেকে থাকে তাও লকডাউনের পর কেটে যাবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে