মা-বাবা হারিয়ে হলেন এতিম, এখনো জানেন না পাভেল

ঢাকা, সোমবার   ০২ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৮ ১৪২৮,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মা-বাবা হারিয়ে হলেন এতিম, এখনো জানেন না পাভেল

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৫ ৩১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৮:০০ ৩১ মার্চ ২০২১

পাভেল (বামে) দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাস ও লেগুনা (ডানে)

পাভেল (বামে) দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাস ও লেগুনা (ডানে)

মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে পিকনিকে রওনা হয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী পাভেল ইসলাম। মাইক্রোতে উঠেই একটি সেলফি তুলে ফেসবুকের ‘মাই ডে’ দিয়েছিলেন তিনি। লিখেছিলেন- ‘গোয়িং টু রাজশাহী’। কিন্তু সব আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হলো। রাজশাহীর পথে ঘটে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনায় পাভেল হারিয়েছেন বাবা মোখলেসুর রহমান ও মা পারভীন বেগমকে। তবে মা-বাবার মৃত্যুর খবর জানেন না ছেলে। কারণ অচেতন হয়ে পাভেল পড়ে আছেন হাসপাতালে।

২৬ মার্চ দুপুরে রাজশাহীর কাটাখালীতে বাস-মাইক্রোবাস ও লেগুনার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মাইক্রোবাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ১৭ জন যাত্রী নিহত হন। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান পাভেল। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন।

রামেক হাসপাতালে রয়েছেন পাভেলের মামি, চাচাতো ভাইসহ চারজন। মাঝে মাঝে তারা পাভেলের কাছে গিয়ে নাম ধরে ডাকছেন। এতে পাভেল হালকা হাত ও পা নাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু চোখ খুলছেন না। পাভেলের জ্ঞান এখনো ফেরেনি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালে পাভেলের চাচাতো ভাই মো. সাগর বলেন, পাভেলের জীবনে যে কী ঘটে গেছে তা তিনি এখনো জানেন না। মা নেই, বাবা নেই- এসবও জানেন না। তার কাছে বারবার যেতে বলেছেন ডাক্তার। পরিচিতদের তার সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। আমরাও যাচ্ছি। পাভেল কথা বলতে পারছেন না।

আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সোমবার পাভেলের কাছে গিয়েছিলাম। জ্ঞান না ফিরলেও তার শারীরিক অবস্থা ভালো। বেঁচে যাবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেয়া সম্ভব হবে। তবে জ্ঞান ফেরার পর সবকিছু জেনে তিনি মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়তে পারে। তখনও তিনি একটি ধাক্কা খাবেন। ধীরে ধীরে তাকে সব জানাতে হবে।

পাভেলের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দারিকাপাড়া গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। দুর্ঘটনায় আরো যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সবার বাড়ি পীরগঞ্জে। রাজশাহীতে তারা পিকনিকে আসছিলেন। হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ওই মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। এতে মাইক্রোবাসের ভেতর পুড়ে অঙ্গার হন ১১ জন। আর মাইক্রোবাস থেকে ছিটকে পড়া ছয়জনকে হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনায় বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর