দুবাইয়ের হাসপাতালে ১০ দিন ধরে সংজ্ঞাহীন মনির খান 

ঢাকা, সোমবার   ০২ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৮ ১৪২৮,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

দুবাইয়ের হাসপাতালে ১০ দিন ধরে সংজ্ঞাহীন মনির খান 

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৬ ৩১ মার্চ ২০২১  

মনির খান

মনির খান

মাদারীপুরের শিবচরের উৎরাইল গ্রামের বাসিন্দা মনির খান। ১৪ বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন তিনি। গত ১৮ মার্চ  কাজ করতে গিয়ে একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মনির খান। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে দুবাইয়ের রশিদ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

কাজ করতে গিয়ে বিল্ডিং থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত ‍পান তিনি। এর পর থেকেই জ্ঞানহীন অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। তবে মালিক পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য খোঁজ খবর রাখছে না বলে জানা গেছে। জ্ঞানহীন অবস্থায় মনির খান দুবাই এর রশিদ হাসপাতালের ৩১ নং ওয়ার্ডের ২বি শয্যায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হবার পর তার মাথায় বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। হাসপাতালে ভর্তির পরের দিন বাংলাদেশি পরিচিত এক ব্যক্তি দেখতে গিয়েছিলেন ভেতরে। এর পর থেকে তার সঙ্গে দেখা করতেও দিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে মালিক পক্ষ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মনির হোসেন খানকে মাদকাসক্ত বলেও প্রচার করছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তার সব কাগজপত্রও মালিকপক্ষ আটকে রেখেছে বলে জানায় তার পরিবার। 

মনির খানের স্ত্রী লাভলী বেগম বলেন, গত ১৮ মার্চ কাজ করতে গিয়ে স্বামী গুরুতর আহত হয়। দুইদিন পরে আমরা খবর পাই। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরে তার পরিচিত একজন দেখতে গিয়েছিলেন। আইসিইউতে রাখার পর আর তাকে দেখতে যেতে পারে নি। প্রায় দশ দিনের বেশি হাসপাতালে পড়ে আছে। আমরা কোনো খোঁজ খবর নিতে পারছি না। দুবাইতে তিনি ভারতীয় মালিকের অধীনে কাজ করতেন।

তিনি আরো বলেন, মালিক পক্ষের লোকজন চিকিৎসার খরচও দিচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তার চিকিৎসাও ঠিকমত হচ্ছে না। তিনি বেঁচে আছেন কিনা তারও কোনো খবর নেই। 

প্রবাসী মনির খানের ১৫ বছর বয়সী ছেলে সাজিম খান বলেন, আমার বাবার চিকিৎসা হচ্ছে না সেখানে। কেউ তার কোনো খোঁজখবরও নিতে পারছি না। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই। বাবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশে আনতে চাই। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে