বরিশালের সেই বৃদ্ধা হাঁচি দিলে এখনো বের হচ্ছে জীবিত পোকা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

বরিশালের সেই বৃদ্ধা হাঁচি দিলে এখনো বের হচ্ছে জীবিত পোকা

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৮ ৩০ মার্চ ২০২১  

এ পর্যন্ত ৮০টি পোকা বের হয়েছে

এ পর্যন্ত ৮০টি পোকা বের হয়েছে

কুমুদিনী বালা। বয়স ৯৫ বছর। প্যারালাইসিস হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হাত-পা নাড়াছাড়া করতে পারেন না। আর এ সুযোগটি কাজে লাগায় পোকার দল। এসব পোকা তার নাক কিংবা কান দিয়ে ঢুকে মাথায় বেঁধেছে বাসা। পেড়েছে ডিমও। এখন হাঁচি দিলেই নাক থেকে পোকা বেরিয়ে আসছে। গত কয়েকদিনে তার নাক দিয়ে অর্ধশতাধিক জীবিত পোকা বের হয়েছে।

শুধু তাই নয়, কয়েকদিন ধরে এ বৃদ্ধার চোখ থেকে অনবরত পানি ঝরছে। কুমুদিনী বালার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার কাকড়াবুনিয়া এলাকায়। তিনি একই এলাকার অমূল্য চন্দ্র হালদারের স্ত্রী।

বর্তমানে কুমুদিনী বালা বরিশাল নগরীর ব্রাউন্ড কম্পাউন্ডের রয়েল সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. খান আব্দুর রউফের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, কুমুদিনীর মাথার মধ্যে পোকা বাসা বেঁধেছে। এ কারণে হাঁচির সঙ্গে তার নাক থেকে পোকা বের হচ্ছে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।

ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খান আব্দুর রউফ বল‌েন, বৃদ্ধার নাক থেকে তিনদিনের ব্যবধানে ৬০টি জীবন্ত পোকা বের করা হয়েছে। তার মাথার মধ্যে আরো পোকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুমুদিনীর ছেলে মন্টু হালদার জানান, ২৭ মার্চ সকালে হঠাৎ তার মায়ের নাক থেকে একটি পোকা বের হতে দেখেন। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তারা ইএনটি চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসক আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ওই দিন থেকে রোববার পর্যন্ত তার মায়ের নাক থেকে ৬০টি জীবিত পোকা বের করে দেখান চিকিৎসক। সর্বশেষ সোমবার ২০টি পোকা বের করা হয়।

ইএনটি বিশেষজ্ঞ খান আব্দুর রউফ বলেন, নাক, চোখ ও কপালের অভ্যন্তরে একাংশে ফাঁকা জায়গা থাকে। কোনোভাবে পোকা সেখানে ঢুকে খালি জায়গায় বাসা বাঁধে। সেখানে ডিম পাড়ে। পরে সেই ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। কুমুদিনী বালার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। এ রোগের নাম ‘ম্যাগোট ইন দ্যা নোজ অ্যান্ড প্যারানাজাল এয়ার সাইনাস’।

চিকিৎসকের ধারণা, বেশ কয়েক বছর ধরে প্যারালাইসিসের কারণে দুই হাত নাড়াচাড়া করতে পারেন না কুমুদিনী। সেই সুযোগে পোকা তার নাক বা কান দিয়ে ঢুকে খালি স্থানগুলোতে বাসা বেঁধেছে।

তিনি আরো বলেন, নাক ও ভেতরের অংশ আরো কয়েকবার ওয়াশ করার প্রয়োজন হতে পারে। সব পোকা বের করা হলে সিটিস্ক্যান করে দেখা হবে। এরপর পোকার বাসাটি নির্ণয় করার পর ওষুধ দিয়ে ধ্বংস করা হবে। পাঁচ থেকে সাতদিনের চিকিৎসায় কুমুদিনী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর