মরুর প্রাণী দুম্বা এখন চুয়াডাঙ্গায়

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

মরুর প্রাণী দুম্বা এখন চুয়াডাঙ্গায়

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ৯ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৪ ৯ মার্চ ২০২১

ঘাস, পাতা খাচ্ছে দুম্বাগুলো

ঘাস, পাতা খাচ্ছে দুম্বাগুলো

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে বেড়ে ওঠা সেই দুম্বা এখন দেশেই পালন করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার একটি খামারে বেড়ে উঠছে এসব দুম্বা। প্রাণীটির জন্য তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম মরুভূমিও। বর্তমানে ওই খামারে ১০টি দুম্বা লালন-পালন করা হচ্ছে। দুম্বা পালনে এলাকার আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ঢাকার একটি খামারের মাধ্যমে দুম্বা সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকেই দুম্বা পালন শুরু করে স্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি-সিডিসি, ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামে কয়েকটি এনজিও প্রতিষ্ঠান।

প্রথমে ঢাকা থেকে আয়োশি ও রেড মাসাই জাতের ছয়টি দুম্বা কিনে দামুড়হুদার কোষাঘাটা এলাকায় আনা হয়। সেখানে খামার তৈরি করে বালু দিয়ে বানানো হয়েছে কৃত্রিম মরুভূমি। সেই মরুভূমিতেই লালন-পালন করা হচ্ছে এসব দুম্বা।

প্রথমে একটি নর জাতের এবং পাঁচটি নারী জাতের দুম্বা সংগ্রহ করতে খরচ পড়ে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে চারটি দুম্বা শাবক। সুস্থতার সঙ্গে দিনদিন বেড়ে উঠছে এসব শাবক। সবুজ ঘাস, খড়, গম, ভুট্টা, ছোলা, গাছের পাতা খেয়েই প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে দুম্বাগুলো।

খামার সহায়ক মনোয়ার হোসেন বলেন, মরুভূমি পছন্দ করে দুম্বা। তাই এখানে ছোট্ট পরিসরে কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে নারী দুম্বাগুলো চারটি বাচ্চা দিয়েছে। এতে মোট দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি।

দুম্বা পালনের জন্য বানানো হয়েছে কৃত্রিম মরুভূমি

গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা ভাঙা, সরিষার খৈল, চিটাগুড়, খড়, মাল্টিভিটামিনসহ বিভিন্ন খাদ্য একত্রে মিশিয়ে তাদের তিন বেলা খাবার দেয়া হয়। এছাড়া সবুজ ঘাস ও কাঁঠাল পাতা তাদের পছন্দ। ছাগল-ভেড়ার মতোই লালন-পালন করা হয় এসব দুম্বা।

এ খামারের সহকারী সমন্বয়কারী ডা. তুহিন মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় দুম্বার খামার নতুন। তবে দেশের অন্যান্য স্থানে কমবেশি যারাই দুম্বা পালন করছেন, কেউই লোকসানে নেই। কারণ ছাগল-ভেড়ার মতোই দুম্বা লালন-পালন করা যায়। বংশও বাড়ে ছাগল-ভেড়ার মতোই। আবহাওয়া, খাবার, চিকিৎসাতেও নেই সমস্যা।

তিনি বলেন, একটু সতর্ক থাকলেই দুম্বাকে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচানো সম্ভব। তিন থেকে চার বছরে পরিণত হয় একটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বা। তখন ১০০ থেকে ১২০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। দাম হতে পারে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। কোরবানির সময় দুম্বার প্রচুর চাহিদা থাকে।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, দুম্বা ও ভেড়া কাছাকাছি প্রাণী। দুম্বা মরুর প্রাণী হলেও এটি একটি সহনশীল প্রাণী। দেখতে ভেড়ার মতো তবে পেছনের অংশ ভারী। ভেড়ার মতোই দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। মাংস উৎপাদনে ছাগল-ভেড়ার চেয়ে এগিয়ে দুম্বা। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ছাগল-ভেড়ার চেয়ে দুম্বা পালন লাভজনক।

এখন পর্যন্ত দুম্বা পালনে তেমন কোনো বিরূপ ক্ষতি কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধি দেখা না দেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ধর্মানুরাগী মুসলমানদের অনেকে দুম্বা কোরবানি দিতে চান। কোরবানির জন্য দুম্বার প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয়। দেশে দুম্বা উৎপাদন বাড়লে আমদানি কমবে এবং সহজলভ্যও হবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তা। সরকারিভাবে ব্যাংক ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা পেলে দুম্বা পালন বেকার জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর