ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় নিয়ে বোনকে হত্যা করল দুই ভাই

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় নিয়ে বোনকে হত্যা করল দুই ভাই

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০৯ ৯ মার্চ ২০২১  

শফিউল আজম ও শামীম হোসেন

শফিউল আজম ও শামীম হোসেন

সম্পদের লোভে চাচাতো ভাইয়ের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে নেত্রকোনা নিয়ে বোনকে হত্যা করেছে আপন ভাই। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেয় তারা।

নিহত শামীমা বেগম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের মেয়ে।

এ ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহতের আপন ভাই শফিউল আজম ও চাচাতো শামীম হোসেন। রোববার কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে প্রথমে শামীমকে পরে শফিউলকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম খাইরুল আলম।

তিনি জানান, সম্পদের লোভে বোনকে হত্যা করেছে শফিউল। এরপর নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে মিথ্যা জিডি করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

পুলিশ সুপার জানান, ৪ মার্চ মিরপুর থানায় জিডি করে শফিউল আজম। জিডিতে সে উল্লেখ করে- তার বোন শামীমা বেগম গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা দেয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত বোনের সঙ্গে তার মোবাইলে কথা হয়। এরপর থেকে শামীমার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। জিডির সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শামীমার চাচাতো ভাই শামীম হোসেনকে ও আপন ভাই শফিউল আজমকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা বোনকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে- পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি চাচাতো বোন শামীমা বেগমকে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা নিয়ে যায় শামীম হোসেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তারা নেত্রকোনা শহরের একটি হোটেলে ওঠে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শফিউল আজম হোটেলে দুজন ভাড়াটিয়া লোক পাঠায়। তাদের সহায়তায় শামীমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ কংস নদীতে ফেলে দেয় শামীম। ৩ মার্চ দুপুরে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ সুপার এসএম খাইরুল আলম জানান, শামীমার মা মারা যাওয়ার পর শফিউল অন্য এক নারীকে মা সাজিয়ে তার মায়ের নামে ঢাকায় ছয়তলা বাড়ি ও মার্কেট নিজের নামে লিখে নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন শফিউলের বাবা আশরাফ উদ্দিন। ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিল শামীমা। ৩০ বছর আগে নেত্রকোনা সদরে শামীমার বিয়ে হলেও অল্পদিনই  ডিভোর্স হয়ে যায়। সেই থেকে শামীমা ঢাকায় বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। সম্পত্তি ভাগাভাগি হবে- এই ক্ষোভে শফিউল প্রায়ই শামীমাকে নির্যাতন করতো। ভাইয়ের নির্যাতন থেকে বাঁচতে তিনি স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চান। সম্পত্তি জালিয়াতির মামলায় যাতে শামীমা সাক্ষী দিতে না পারে এ জন্য শফিউল ও শামীম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুষ্টিয়া সদর সার্কেল) মো. আতিকুল ইসলাম, মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর