ব্যবসায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন পিরোজপুরের নারীরা

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

ব্যবসায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন পিরোজপুরের নারীরা

ইমন চৌধুরী, পিরোজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২০ ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৬:২১ ৮ মার্চ ২০২১

অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্যমী নারীদের অবদান

অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্যমী নারীদের অবদান

অর্থনীতিতে উদ্যমী নারীদের অবদান বেড়েই চলেছে। এতে যেমন তাদের আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে তেমনি দেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

নারীরা সংসারে কাজ করবে, আগের সেই ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। সংসারের বাইরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ আজ আর নজিরবিহীন নয়। এক সময় যেসব কাজ শুধু পুরুষদের জন্যই নির্ধারিত ছিল, সেসব কাজে এখন নারীরাও অংশগ্রহণ করছে। পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার লক্ষ্যেই তাদের এই প্রচেষ্টা। বিউটি পার্লার, হাতের কাজের পণ্য, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের সুপার শপ কিংবা যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অবিচল নারীরা। পাচ্ছেন সফলতাও।

সংসারের পাশাপাশি কিছু বাড়তি আয়ের আশায় নারীদের কর্মক্ষেত্রে দেখা গেলেও, পিরোজপুরের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। শহরের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এককভাবে নারীরা পরিচালনা করছেন, যা একটা সময় প্রায় অসম্ভবই মনে করা হতো। পোশাকের বিপণিবিতান, টেইলার্স, বিউটি পার্লার, হাতের কাজের পণ্য, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের সুপার শপসহ যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তারা। তবে এ সফলতার মধ্যে সহযোগিতা থাকে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীরাও আত্মকর্মসংস্থান করে নিতে পারেন বলে দাবি সফল উদ্যমী নারীদের।

টেইলারিং ব্যবসায়েও পিছিয়ে নেই নারীরা

চায়ের দোকানদার গিতা রানী জানান, তার স্বামী কয়েক মাস আগে মারা গেলে তিনি জীবিকা নির্বাহে ও ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করে ভালো মানুষ গড়ার লক্ষ্যে এই চায়ের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় সীমিত লাভ নিয়েই চলতে হচ্ছে তাদের। সরকারি সহযোগিতা পেলে ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন বলে তার দাবি।

নারী মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করা সংগঠন মহিলা পরিষদের পিরোজপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক সালমা রহমান হ্যাপী বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমান মূল্যায়ন করা হলে নারীদের সর্বক্ষেত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আমরা মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন সহযোগিতা করে থাকি।

পিরোজপুরের ডিসি আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করে দেবে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যম সৃষ্টি করে দেব। কেউবা শুধু স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন থেকে কেউবা বাধ্য হয়েই জীবিকা নির্বাহে বেছে নিয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসা। তবে কারণ যাই হোক, দেশের উন্নয়নে নারীদের এমন পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সবাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/জেএইচ/এইচএন