হাসপাতালের ওষুধ বস্তায় ভরে পাচার, ছবি তোলায় সাংবাদিক অবরুদ্ধ

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

হাসপাতালের ওষুধ বস্তায় ভরে পাচার, ছবি তোলায় সাংবাদিক অবরুদ্ধ

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:১৬ ৮ মার্চ ২০২১  

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী কোয়ার্টারের আশপাশে পড়ে থাকা ওষুধ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী কোয়ার্টারের আশপাশে পড়ে থাকা ওষুধ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ পাচার এবং অবৈধভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করার অভিযোগ উঠছে।

শনিবার রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের কোয়ার্টারের আশপাশ থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং ২০২১-২০২২ সাল মেয়াদের কিছু ওষুধ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বস্তা ভর্তি ওষুধ পাচারের ছবি তোলায় ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আরএমও’র বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানায়, সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার সাইদুর রহমান ও তার ৩-৪জন সহযোগী শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্মচারীদের কোয়ার্টারের আঙ্গিনায় ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করছিল। অবৈধভাবে ওষুধ পোড়ানোর খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে স্টোর কিপার ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। খবর পেয়ে গৌরনদীর ইউএনও এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ২০২১-২০২২ সাল মেয়াদের কিছু ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনজেকশন ও হেক্সিসেল উদ্ধার করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওষুধগুলো কোয়ার্টারের আশপাশে ফেলে রেখে স্টোর কিপার আত্মগোপন করে।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়্যিদ মোহাম্মদ আমিরুল্লাহ্ জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করার জন্য কমিটি থাকা প্রয়োজন। কমিটি না থাকায় কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও ইনজেকশন ধ্বংস করছিলে স্টোর কিপার। সাংবাদিকরা সেই ছবি তুলতে গেলে স্টোর কিপার ভয়ে বাকি ওষুধ কোয়ার্টারের পাশে ফেলে রাখে। স্টোর কিপারকে খুঁজে না পাওয়ায় এবং তার মোবাইল বন্ধ থাকায় রাতেই থানায় জিডি করা হয়।

গৌরনদীর ইউএনও বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ওষুধ পাচার এবং অবৈধভাবে ধ্বংস করার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুরো ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর