হবিগঞ্জে তীব্র পানির সংকট

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

হবিগঞ্জে তীব্র পানির সংকট

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৪ ৬ মার্চ ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জ শহরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময়েই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহর ও শহরতলীর অধিকাংশ এলাকাতেই মোটর ও টিউবওয়েলের পানি উঠছে না। অনেকেই পুকুর কিংবা পার্শ্ববর্তী কোনো ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি এনে ব্যবহার করছেন।

এতে করে শহরবাসী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত পানির গতিবেগ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টাও বালতি, ড্রাম দিয়ে রেখেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার সাপ্লাইয়ের লাইনে ময়লা জমাসহ অবৈধ মোটরলাইন সংযোগ থাকায় এরকম হচ্ছে। 

জানা গেছে, পানি সঙ্কটের সূত্রপাত হয় আজ থেকে প্রায় বছর দশেক আগে থেকে। প্রাকৃতিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিম্নগামী হওয়াতে এ সঙ্কট ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাস থেকে সাধারণ টিউবওয়েলের পানির প্রবাহ হ্রাস পেতে থাকে। চৈত্র মাসে অগভীর নলকূপগুলোর পানির প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সুপেয় পানির অভাব অনুভব করতে থাকেন। এলাকাব্যাপী দেখা দেয় পানযোগ্য পানির সংকট।

এদিকে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নগামী হওয়ার অন্যতম কারণ বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের সাহায্যে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ধান চাষসহ অন্যান্য ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ করা। শীত মৌসুমে রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসল চাষে প্রচুর পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। তাই নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরসহ সব জলাধার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। অনেকেই আবার বিশুদ্ধ পানির অভাব দূরীকরণে এলাকার সচ্ছল ব্যক্তিরা বাড়ির আঙিনায় ৭০-৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। ওই ডিপ-টিউবওয়েলগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়াতে অনেকেই সেখানে যেতে অস্বস্তিবোধ করেন। 

শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা শাওন খান জানান, তার বাসার একমাত্র মোটরটি দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পানি উঠছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটর চললেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। এছাড়াও বাড়িতে থাকা একমাত্র টিউবওয়েলটিও নষ্ট। তাই বাধ্য হয়েই দূরবর্তী কোনো পুকুর বা জলাশয় থেকে পানি এনে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে তাদের। একই এলাকার বাসিন্দা রাহিম মিয়া জানান, তাদেরও একই অবস্থা। টিউবওয়েলে পানি উঠছে কম করে। আর মোটরেতো পানিই উঠছে না। 

গৃহবধূ আসমা আক্তার জানান, দৈনন্দিন কাজে পানি অপরিহার্য। বছরের এই সময়টা এলেই মোটর কিংবা টিউবওয়েল দিয়ে পানি কম কম উঠে। তাই রান্নাসহ অন্য কাজ করতে বেগ পেতে হয় আমাদের। এছাড়াও পানি সংকটের কারণে অনেক সময় বাচ্চাদের সঠিক সময়ে গোসলও করানো যায় না।
 
হবিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া বলেন, বছরের এই সময়টাতে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা হয়েই থাকে। সেচ কাজেও বিভিন্ন সময় পাম্প দিয়ে অতিরিক্ত পানি তোলায় পানির লেভেল নিচে চলে যায়। সে জন্যই এমনটি হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, পানির সমস্য দূর করতে আমরা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় গভীর নলকূপ করে দিচ্ছি। তবে অনেকেই মনে করছেন ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে প্রতি বছরই পানি সংকট দেখা দেয়। তবে এ সময়টায় বৃষ্টি হলে পানির সংকট কেটে যেতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম