পাকা ঘর পাচ্ছেন যমজ সন্তানকে বিক্রি করে দেয়া সেই দম্পতি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

পাকা ঘর পাচ্ছেন যমজ সন্তানকে বিক্রি করে দেয়া সেই দম্পতি

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৬ ৬ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১২:০৯ ৬ মার্চ ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অভাবের তাড়নায় যমজ শিশু বিক্রির খবরে জামালপুরের ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক আকস্মিকভাবে ছুটে যান পৌরসভার রামনগরের দিনমজুর আলী আকবরের বাড়িতে। সেখানে তিনি ওই পরিবার ও যমজ শিশুর খোঁজ খবর নেন। 

প্রতিশ্রুতি দেন সরকারের সহায়তায়, আলী আকবরের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের। বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ দুপুরে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পরিবারটিকে ১ লাখ ৯৫ হাজার আর্থিক সহযোগিতা দেন ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক। এ সময় প্রশাসনের সব কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে তাদের জমিতে পাকা বাড়ি তৈরির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। 

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিসি ( সার্বিক) মো. মোকলেছুর রহমান, ইউএনও ফরিদা ইয়াছমিন, সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. মাহমুদা বেগমসহ প্রমুখ।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরে জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করলে জানা যায়, জামালপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের রামনগর গ্রামের আলী আকবর ও মর্জিনা বেগম অভাবের তাড়নায় যমজ সন্তানকে প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনাটি সংবাদের মাধ্যমে ডিসির দৃষ্টিগোচর হলে মর্জিনা বেগমের দম্পতির বাড়িতে আকস্মিক উপস্থিত হন তিনি। পরে পরিবারটি যাতে অভাব কাটিয়ে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য পাকা বাড়ি ও পরিবারের দৈনিক উপার্জনের জন্য একটি মুদি দোকান দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এর দুই মাসের মাথায় অভাবিত দম্পতির জমিতে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। 

মর্জিনা বেগম কান্নাভেজা চোখে জানান, অভাবের সংসারে আমাদের কোনো রকমে জীবন চলে। ডিসি স্যার যে তাদের ভাঙা বাড়িতে যাবেন তা কল্পনাও করেননি তিনি। সে সঙ্গে পাকা ঘর নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। 

আলী আকবর বলেন, ডিসি স্যার পাকা ঘর বানায় দিতাছেন। পাকা ঘরে থাকমু এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তাছাড়া মুদি দোকানও কইরা দিবো ঘোষণা দিছেন। স্যার আরো কইছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব মানুষদের ঘর তুইলা দিতাছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের ট্যাহায় ঘর ও দোকান কইরা দিলে আমগোর আর কোন অভাব থাকবো না। আল্লাহ যেন তারে ভালো রাখেন।

জামালপুর সদর ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান 'মুজিব বর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না' এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, জামালপুরের উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন মর্জিনা বেগমকে বাড়ি প্রদানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ডিসি জনাব মোহাম্মদ এনামুল হক। শুধু মর্জিনা দম্পতি নয়। যেখানেই অসহায় মানুষ অভাবের যন্ত্রণায় ভুগবে সঠিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে তাদেরেকই স্বাবলম্বী করা হবে।

জামালপুর সদর উপজেলা (ভূমি) মাহমুদা বেগমের দাবি, শুধু মর্জিনা নয়, এর আগেও জামালপুর সদরের কুটামনিতে অসহায় ভ্যানচাল শিশু শম্পাকে ঘর নির্মাণসহ মুদি দোকান করে দেয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্নস্থানে সরকারি খাস জমিতে ঘর উত্তোলন করে ভূমিহীন ও অভাবীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সরকারের মহতি উদোগে অনেক পরিবার আজ নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। অসহায় মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন সে ব্যাপারে সরকার বদ্ধ পরিকর।

ডিসি মোহাম্মদ এনামুল  হক জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের জামালপুরের অফিসাররা অভাবি আলী আকবরের পরিবারকে অর্থিকভাবে সহযোগিতা করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে পারিবারটি যেন চলতে পারে সেদিক বিবেচনা করে মুদি দোকান করে দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস