এক বছর ধরে বন্ধ খোয়াই নদীর উচ্ছেদ অভিযান

ঢাকা, বুধবার   ২১ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৯ ১৪২৮,   ০৮ রমজান ১৪৪২

এক বছর ধরে বন্ধ খোয়াই নদীর উচ্ছেদ অভিযান

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২২ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২১:২২ ৫ মার্চ ২০২১

মাছুলিয়া থেকে মার্কাজ মসজিদ পর্যন্ত বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলেও আবারো অনেক ভবনই মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে স্ব-মহিমায়।

মাছুলিয়া থেকে মার্কাজ মসজিদ পর্যন্ত বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলেও আবারো অনেক ভবনই মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে স্ব-মহিমায়।

অবৈধ দখল আর দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়া পুরাতন খোয়াই নদীর উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রায় ১ বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। মাঝে কয়েকবার উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানালেও অজানা কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। 

মাছুলিয়া থেকে মার্কাজ মসজিদ পর্যন্ত বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলেও আবারো অনেক ভবনই মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে স্ব-মহিমায়। ভেঙে ফেলা অংশটুকু থেকে জোড়া তালি দিয়ে ভবনের মূল অংশের সঙ্গে যুক্ত করে নিচ্ছেন এসব অবৈধ দখলদাররা। তাই দ্রুত পুরাতন খোয়াই নদীর পূর্ণাঙ্গ সীমানা চিহ্নিতকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পুনরায় চালু, সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি সচেতন মহলের। 

দখল দূষণ আর ভরাট হয়ে যাচ্ছে শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন খোয়াই নদীটি। নদীর পাড়সহ বিভিন্ন অংশে যে যার মত করে অবৈধভাবে দখল করে  রাখে দীর্ঘদিন। আর এতে করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই দুুর্ভোগে পড়েন শহরবাসী। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদের সময়ে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। 

মাছুলিয়া থেকে শুরু হয়ে মুসলিম কোয়ার্টার এলাকা পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হয় ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এরপর ডিসি মাহমুুদুল কবীর মুরাদের বদলি ও করোনার কারণে থমকে যায় উচ্ছেদ কার্যক্রম। আর এ সুযোগে তৎপর হয়ে উঠছে অবৈধ দখলদাররা। 

মাছুলিয়া থেকে অনন্তপুর এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, অনেক বহুতল ভবনের ভেঙে ফেলা অংশ ফের ইট বালু দিয়ে মেরামত করাচ্ছেন ভবন মালিকরা। এমতাবস্থায় মূল ভবনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভেঙে ফেলা অংশটুকু। এতে করে আগের ন্যায় আবারো পুরাতন খোয়াই দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও উচ্ছেদ হওয়া বিভিন্ন অংশে টিনের চাপটা তৈরি করে ফের পরিচালনা করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। তাই সচেতন মহল মনে করছেন এখনই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে নদীটি ভরাট হয়ে যেতে পারে। 

জেলা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, অবৈধ দখলের কারণে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরজুড়ে শুরু হয় কৃত্রিম বন্যা। আর এতে দুর্ভোগে পড়ে হাজারো সাধারণ মানুষ। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 
 
হবিগঞ্জের ডিসি মো. কামরুল হাসান জানান, করোনাসহ বেশ কিছু কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো যায়নি। তবে দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে