যৌতুক মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে পুলিশ কনস্টেবল

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

যৌতুক মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে পুলিশ কনস্টেবল

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২০ ৪ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২১:২৭ ৪ মার্চ ২০২১

দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা

দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা

পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানাকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর হাকিম মো. শামসুল আলামীন এ রায় দেন। 

২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি সোহেলের স্ত্রী জালেকা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা আমলি আদালত-৩ এ মামলাটি করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ওয়াদুদ হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর বাদী জালেকা খাতুন সাঁথিয়া উপজেলার দারামুদা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে জালেকা খাতুনের ২০১৫ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে এ দম্পতির একটি সন্তানও হয়। তারপরও সোহেল যৌতুকের দাবিতে অনড় থাকেন। যৌতুকের টাকা দিতে জালেকার পরিবার অক্ষমতার কথা জানানোর পর জালেকাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন সোহেল। ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট শিশু সন্তানসহ স্ত্রী জালেকা খাতুনকে বাড়ি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেন সোহেল। এরপর থেকে তিনি আর স্ত্রী সন্তানের খোঁজ নেননি। এ অবস্থায় ওই বছরের ৭ অক্টোবর জালেকা খাতুন ও তার সন্তানকে সঙ্গে করে নিয়ে জালেকার স্বজনরা সোহেল রানার বাড়িতে যান। কিন্তু সোহেল তার যৌতুকের দাবি ছাড়েননি। তা ছাড়া তিনি জালেকাকে রাখবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। 

এরপর ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি জালেকা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা আমলি আদালত-৩ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নেন। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাঁথিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা পারভীনকে নির্দেশ দেন। তিনি ওই বছরের ১৪ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন ( দাখিল করেন।  অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে একই বছরের ১২ এপ্রিল আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এরপর সমনে হাজির হয়ে আদালতে থেকে জামিন ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল সোহেল।

দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার সোহেলকে  ২ বছরের কারাদণ্ড একইসঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরো একমাসের কারাদণ্ড দেয়।

এ সময় আসামি সোহেল রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলা পরিচালনায় বাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ ও আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আজিজুল হক।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/আরএম