থালা নিয়ে পথে বসতে হবে মিজানকে

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

থালা নিয়ে পথে বসতে হবে মিজানকে

রামিম হাসান, ঝিনাইদহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৫ ৪ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২০:৪৬ ৪ মার্চ ২০২১

তছনছ হওয়া দোকানে বসে কাঁদছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান

তছনছ হওয়া দোকানে বসে কাঁদছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ব্রম্মপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার বলি হয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান। তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছোট্ট দোকানেও ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়েছে হামলাকারীরা। এখন দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য তার পথে বসার অবস্থা হয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফা সংঘর্ষ হয় ওই উপজেলার ৬ নম্বর সারুটিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুনের সঙ্গে জুলফিকার কায়সার টিপু নামে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। এ সময় অন্তত ২৫টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিজানুর রহমান জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, দুই চোখে একদমই দেখতে পান না। তিন বছর আগে বাবা-মা তাকে বাড়ির সঙ্গেই ছোট্ট একটি মুদি দোকান তৈরি করে দিয়েছেন। এরপর বিয়েও করিয়েছেন। সেই থেকে এই দোকানের আয়েই চলছিল ২৫ বছর বয়সী এ যুবকের সংসার।

স্থানীয়রা জানায়, মিজানুর চোখে দেখতে পায় না। ক্রেতারা নিজেরাই দোকান থেকে মালামাল নিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে যায়। কেউ বাকি নিলে তারাই খাতায় লিখে দিয়ে যায়। ছোট্ট দোকানটার কারণেই মিজানুরের দিনগুলো যাচ্ছিল কোনোমতে। তবে শেষ রক্ষা হলো না। হামলাকারীরা তার দোকান তছনছ করে দিয়েছে। ফ্রিজ ভাঙচুর, মালামাল ছাড়া প্রায় ২০ হাজার টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান বলেন, দোকানটাই ছিল আমার আয়ের একমাত্র উপায়। এই দোকানের আয়েই আমার পরিবারের খাবার জুটতো। লোন তুলে দোকানের মালামাল কিনেছিলাম। সেই লোনও শোধ হয়নি। এখন আমি কী করব? থালা নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

তিনি আরো বলেন, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করায় আমার ৮০-৮৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামলার সময় আমার মা আমাকে বাড়ির পেছনে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। নইলে হয়তো আমাকেও মারধর করতো হামলাকারীরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর