চেয়ারম্যান হয়েই গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদ

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

চেয়ারম্যান হয়েই গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদ

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৮ ৪ মার্চ ২০২১  

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগে তার ছিল সামান্য কিছু জমি। চেয়ারম্যান হওয়ার পরই গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদ।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগে চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারমান বাশার একাধারে একটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান শিক্ষক, ঠিকাদার। নিজের বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে নামে বরাদ্দ নিয়ে সেই ঠিকাদারির কাজও করেছেন নিজেই। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির নানা অভিযোগ। বাশার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের নামে একাধিক বরাদ্দ নিয়ে লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নিজ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জামালের বাড়ি, ছলেনামা পাকা রাস্তা থেকে বাড়ি পর্যন্ত সড়ক ও উত্তর বাশকান্দি এলাকার একটি রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ এনে লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নিজ এলাকার বিভিন্ন মসজিদের বিভিন্ন কাজের নামে বারবার বরাদ্দ নিয়ে লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বাশার চেয়ারম্যান।

অভিযোগে আরো বলা হয়, চেয়ারম্যান হওয়ার আগে আবুল বাশার ২০ শতক জমির মালিক ছিলেন কিন্তু এখন তার অঢেল সম্পত্তি। তিনি শেখপুর বাজারে দোতলা একটি ভবন ক্রয় করে তিন তলায় উন্নীত করেছেন। এছাড়া শিবচরের দাদাভাই উপশহরের একাধিক প্লট কিনেছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বাসাবো এলাকায় একটি ফ্লাটও কিনেছেন বাশার চেয়ারম্যান। অন্যান্য ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিজেই হাতিয়ে নেন। অন্যের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে শেখপুর বাজারের উন্নয়ন মার্কেট, টলঘর, ড্রেন ও রাস্তার একাধিক কাজ নিজেই সম্পন্ন করেন। এডিবির বরাদ্দকৃত ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য দুটি ঘরের নির্মাণ কাজও করেছেন নিজেই।

এত এত অনিয়মে সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশারের। খালাতো ভাই মাসুম মোল্লা ও চাচাতো ভাই লিটু মুন্সিকে ব্যবহার করেছেন তিনি। তাদের দুজনের নামে প্রাধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ এনে দিয়েছেন আবুল বাশার। সেই কর্মসূচির চালের ৬৮ বস্তা অন্যত্র বিক্রির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় মাসুম। আর লিটু মুন্সির বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ দুদকের ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে তদন্তাধীন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবুল বাসার নিজ বিদ্যালয়ে বসেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সম্পাদন করেন। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া তিনি গরিব ভ্যানচালকদের কাছ থেকে লাইসেন্সের নামে ৪০০ টাকা করে উত্তোলন করেন। এ বিষয়েও মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের কাছে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল বাশার বলেন, আমি ২০১৩ সাল থেকে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্কুল থেকে বেতন নেই কিন্তু পরিষদ থেকে কোনো সম্মানি নেই না। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তাই প্রতিপক্ষ আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ করছে।

জানতে চাইলে মাদারীপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, আমরা শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল আশারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হাতে পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর