প্রভাবশালীদের দখলে রাবার বাগান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০২ রমজান ১৪৪২

প্রভাবশালীদের দখলে রাবার বাগান

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৭ ৪ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৮:০১ ২১ মার্চ ২০২১

রাবার বাগান

রাবার বাগান

কক্সবাজারের রামুতে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাভুক্ত ২ হাজার ৬৮২ একর রাবার বাগানের বনভূমির মধ্যে ৫৩৬ একর ভূমি জবর দখলে চলে গেছে। এ সব জবর দখলে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা দায়ের করেছে রাবার বাগান কতৃপক্ষ। এতে আসামি করা হয়েছে ২২০ জনকে। 

সরকারি রাবার বাগানের ম্যানেজার নন্দী লাল রায় জানিয়েছেন, লোকবল সংকটের কারণে এতবড় রাবার বাগান রক্ষণাবেক্ষণ করা কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠেছে। তারপরও চলতি মাসে ১২টি অবৈধ বসতবাড়ি ইউএনও’র নেতৃত্বে পুলিশের সহায়তায় ভেঙে দিয়ে দখল মুক্ত করা হয়েছে।

১৯৬০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে তৎকালীন সরকার রামুতে রাবার উৎপাদনের লক্ষ্যে ২ হাজার ৬৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করে বনসম্পদ উন্নয়ন করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিলো। সেই থেকে কক্সবাজারের রামুতে রাবার উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে ২ হাজার ১৩০ একর জমিতে রাবার গাছ রয়েছে।

রামুতে দৈনিক গড়ে শুকনো সাড়ে ৭ হাজার কেজি রাবার উৎপাদন করা হচ্ছে

দৈনিক গড়ে শুকনো সাড়ে ৭ হাজার কেজি রাবার উৎপাদন করা হচ্ছে সেখানে। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ১৮০ টাকা করে সর্বমোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

রাবার বাগানের গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে নিজস্ব কারখানায় এসব কষ রাবারে রুপান্তরিত করা হচ্ছে সেখানে। 

রাবার বাগানের ম্যানেজার নন্দী লাল রায় জানিয়েছেন, লোকবল সংকটের কারণে কাজের গতি বাড়ানো যাচ্ছে না। চাহিদা মতো লোকজন ও যানবাহন না থাকায় জবর দখলকারী দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছেনা। তাই মাঝে মধ্যে দুর্বৃত্তরা বাগানে জমি দখলে নিতে ও বাগানের গাছ কাটতে হানা দেয়।   যখন চাই তখনই প্রশাসন থেকে সহযোগিতা পাওনা যাচ্ছে বলেও বাগানের ম্যানেজার জানান।

এদিকে এই রাবার বাগানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে রামু উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল জানিয়েছেন, ১৯৬৮ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজার তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কক্সবাজারে এসে রামু রাবার বাগানের রেস্ট হাউসে উঠেছিলেন। সেখানে বসেই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছিলেন। সেই মনোমুগ্ধকর ঐতিহাসিক রেস্ট হাউসে এখনো বঙ্গবন্ধু যে চেয়ারে বসে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটি সংরক্ষিত আছে।

রাবার বাগানের গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে নিজস্ব কারখানায় এসব কষ রাবারে রুপান্তরিত করা হচ্ছে

তিনি আরো বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া বাংলাদেশ বন সম্পদ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে রাবার চাষ পুরোদমে উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায়। রামুর রাবার বাগানের পরীক্ষামূলক রাবার চাষ পর্যায়ক্রমে দেশের পার্বত্য চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। 

শুধু তাই নয়, এই সেক্টরকে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দেয় সরকার। খুবই লাভজনক এই পেশায় এগিয়ে আসে শিল্পপতিরা। এই রাবার থেকে জুতো, সেন্ডেল থেকে শুরু করে ব্যাগ, পাপুস, চেয়ার, টেবিল, বাসন, প্লেট, দরজা, বালতি, আসবাবপত্র ও নানা রকমারী পণ্য সামগ্রী তৈরি হচ্ছে দেশে। আজ রাবারের প্লাস্টিক এসব পণ্যসামগ্রিই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বন সম্পদ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের রাবার চাষ বা উৎপাদন বাড়াতে আরো বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এআর