লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ঘাটাইলের ৪৩ টি ইটভাটা

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ঘাটাইলের ৪৩ টি ইটভাটা

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২২ ৪ মার্চ ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ৬৮টি। ইটভাটা মালিক সমিতি ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এ বছর ১৩টি ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১২টি ইট ভাটার। বাকি ৪৩টি ভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র এবং লাইসেন্স কোনোটিই নেই।

ফসলি জমি, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ইটভাটাগুলো। আইন অমান্য করে লাইসেন্স ছাড়াই এসব অবৈধ ইটভাটায় চলছে ইট পোড়ানোর কাজ। পরিবেশ অধিদফতর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইটভাটা ভেঙে দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মেরামত করে পুনরায় ভাটা চালু করেছে ভাটা মালিকরা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তত করা ও পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আইন অমান্য করলে ভাটা মালিককে ২ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। কিন্ত আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ভাটা মালিকরা ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। 

আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, সরকারি বা ব্যক্তিগত বন, অভয়ারণ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন স্হানে বা বাগানের আশপাশে ইটভাটা স্থাপন না করার বিধান রয়েছে। অথচ ঘাটাইল উপজেলার চানতারা, ধলাপাড়া, দেউলাবাড়ি, জামুরিয়া, সিংগুরিয়া, রসুলপুর, মোগলপাড়া এলাকার ইটভাটাসহ অধিকাংশ ইট ভাটাই স্থাপন করা হয়েছে কৃষিজমি, বন এলাকা, আবাসিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায়।

পরিবেশ অধিদফতরের বিশেষ টিম গত এক মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অর্ধকোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করেছে অবৈধ ভাটার মালিকদের কাছ থেকে। এ সময় তারা ৭/৮ টি ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা সহ গুঁড়িয়ে দেয়।সম্পতি ঘাটাইল উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পাড়া মহল্লা থেকে এতো বেশি পরিমান ফসলি জমির টপসয়েল মাটি ভাটায়  ও বাসাবাড়িতে মাটি ভরাট করতে বিক্রি হচ্ছে যে, অতীতে এমনটি কখনোই লক্ষ করেনি ঘাটাইলের মানুষ।একই সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে লাল মাটির বড় বড় টিলা ও বনাঞ্চল ধ্বংসের মহা উৎসব।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রামামাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ৫০ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় একটি ভাটা উচ্ছেদ ও কয়েকটি ভাটার স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। এই অভিযান চলমান থাকবে। 

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, লাইসেন্সের জন্য অনেকেই আবেদন করেছেন। মালিকদের বললেও নানা ভোগান্তির কারণে তারা আগ্রহী হন না।

ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় তদন্তসাপেক্ষে ডিসি ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান করেন। অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস