দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ময়মনসিংহের ২০০ খাল

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ময়মনসিংহের ২০০ খাল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৫১ ৪ মার্চ ২০২১   আপডেট: ০৯:৫১ ৪ মার্চ ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

১০ বছর আগেও ময়মনসিংহের ছোট বড় সবগুলো খালের পানি ছিল দূষণমুক্ত। আবাদি জমিতে সেচ দেয়ার কাজে ব্যবহার হতো এ খালের পানি। অথচ, কয়েক বছরের ব্যবধানেই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খালগুলো। খালের পাশ দিয়ে হেটে গেলে পঁচা পানির দুর্গন্ধে যে কারো দম বন্ধ হয়ে আসবে। আর অবৈধ দখলদারদের কারণে কিছু কিছু জায়গায় খালের চিহ্নও মুছে যাবার উপক্রম হয়েছে। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব বলছে, নগরীর আকুয়া খালের জলাভূমির আয়তন ছিলো ১৩.৮৫৮৯ একর, গড় গভীরতা ৮ ফুট। রয়েছে জরাজীর্ণ চারটি কালভার্ট। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মাকরজানি খালের আয়তন ০.১৬৪০১ একর, গড় গভীরতা ৬ ফুট। মাসকান্দা খালের আয়তন ১.৯৩২০ একর, গড় গভীরতা ৭ফুট।  কাগজ কলমে এসব তথ্য থাকলেও সরেজমিন গেলেই বোঝা যায় এর বাস্তব চিত্র।

প্রাকৃতিক এই জলাধারে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। চলছে একের পর এক দখল। এসব জায়গা দখলের পর নির্মিত হয়েছে দোকানপাট ও বহুতল ভবন। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ভোগান্তি হয়ে হয় নগরবাসীকে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিসংখ্যানে জেলায় প্রায় ২০০ টি খাল রয়েছে। শুধু সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নয়, অন্যান্য এলাকাতেও দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে এসব খালের অধিকাংশই দিনে দিনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে।

গ্রামের খালগুলো বাঁধ দিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যাক্তিরা মাছ চাষ করায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ বছর ময়মনসিংহ জেলার প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন পানির মধ্যে আটকা পরে মানবেতর জীবন যাপন করেছে।

আকুয়া খালের দুরাবস্থার বর্ণনা দিয়ে আকুয়া দক্ষিণ পাড়ার বয়োবৃদ্ধ ফজুল হক বলেন, এক সময় এই খাল থেকে ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ মিলতো। স্বচ্ছ টলমলে পানিতে গোসলের পাশাপাশি রান্নাবান্না, বাসনপত্র ধোয়ার কাজও চলতো। সেই দিন আজ শুধুই অতীত।

সম্প্রতি দখল আর দূষণে বিপর্যস্ত খালের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে গেলে, কথা হয় আকুয়া বাড়েরা এলাকার বাসিন্দা ওসমান আলীর সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, খাল দখল করে বাড়ি দোকানপাট করলেও, কেউ কিছু বলে না। যে কারণে এ জায়গা দিয়ে যে খাল গেছে, এক সময় সেই চিহ্নও আর দেখা যাবে না। দখল দূষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবকে দায়ী করেন তিনি। 

আকুয়া খালের মত একই অবস্থা নগরীর মাসকান্দা, মাকরজানি, বগাবাড়ী, গোহাইলকান্দি, সেহড়া, কাটাখালী ও ছত্রপুর খালের। গত বছর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার জন্য ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকের যৌথ উদ্যোগে একটি কমিটি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার তেমন কোন সুফল মিলেনি। 

এই কমিটির আহবায়ক স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক এ কে এম গালিব খান জানান, নগরীর খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের পরপরই মহামারির কারণে কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি খালগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। 
 
ময়মনসিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, এরইমধ্যে নগরীর আকুয়া খাল খনন কাজ চলছে। এছাড়াও নগরীর সব খাল সংস্কারের জন্য একটি মাস্টার প্লান তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়ে একটি কনসালটেন্সি ফার্মের সাথে চুক্তি হয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, খালের সম্পত্তি উদ্ধার ও দখলমুক্ত করতে জেলার সব খালের তালিকা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দ্রুতই উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

ময়মনসিংহে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, খালগুলো উদ্ধারে প্রশাসনের আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। সেইসঙ্গে সবগুলো খাল এই মাস্টারপ্লানের আওতায় খনন করে হারানোর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। তাতেই, ফিরে পাবে খালগুলো তাদের যৌবন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস