হাইকোর্টের জামিন নিয়ে জালিয়াতি, কারাগারে গেলেন ১৪ জন

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৫ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

হাইকোর্টের জামিন নিয়ে জালিয়াতি, কারাগারে গেলেন ১৪ জন

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:১৩ ৩ মার্চ ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাইকোর্টের ভুয়া আগাম জামিননামা তৈরির ঘটনায় বগুড়ায় ১৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার বিকেলে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আসমা মাহমুদ এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জী।

১৪ আসামি হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার গোদারপাড়া এলাকার লিটন প্রামানিক, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ জাকির, মোহাম্মদ তানভির, মোহাম্মদ আব্দুল গনি, রাসেল মণ্ডল, আসাদুজ্জামান মনা, খোকন, শিপন, আল আমিন, দীপ্ত, মিরাজ, হেলাল ও রাব্বী।

বাকি আসামিরা হলেন- পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, আনোয়ার মণ্ডল, মোহাম্মদ বাদল, সেলিম, কিবরিয়া, রাশেদুল, সাদ্দাম, মাহমুদ, রতন, সেলিম রেজা, রুহুল আমিন, জাহিদুর রহমান, নুর আলম মণ্ডল, বিপুল ও সুমন প্রামানিক।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আব্দুল মন্নাফ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সিএসআই প্রদ্যুৎ কুমার কর।

কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জী বলেন, বুধবার আদালতে ১৪ আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। কিন্তু বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বগুড়ায় মোটরমালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পরদিন পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে আমিনুর ইসলামকে প্রধান করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন মশিউল আলম দীপন। ওই মামলায় ৩৩ আসামির মধ্যে ৩০ জনের জামিননামার ভুয়া নথি তৈরি করা হয়।

ভুয়া জামিননামার বিষয়টি ২৪ ফেব্রুয়ারি ধরা পড়ার পর পরই বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের গ্রেফতারের আদেশ দেন।

সাতদিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করতে বগুড়া সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি তদন্ত করতে বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমকেও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের ওই নির্দেশনার পর পরই আত্মগোপনে চলে যান আমিনুর ইসলামসহ ৩০ জন।

বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, জামিন জালিয়াতি সংক্রান্ত কোনো নথি এখনো আমাদের হাতে আসেনি।

মামলার বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ উল্লেখ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি জামিন পেয়েছেন বলে দাবি করেন আমিনুর ইসলামসহ ৩০ আসামি। তবে ওই দিন এ আদালত থেকে এমন কোনো আদেশ হয়নি। এমনকি সেখানে যেসব আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাও ভিত্তিহীন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর