৩১ গ্রামের ভরসা এক বাঁশের সাঁকো

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

৩১ গ্রামের ভরসা এক বাঁশের সাঁকো

এমকে ভুইয়া সোহেল, বাসাইল (টাঙ্গাইল) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৫ ৩ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৪:৪৯ ৩ মার্চ ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের বাসাইলের পূর্বদিকের সিমান্তবর্তী গ্রাম রাশড়া এবং সখিপুর উপজেলার পশ্চিমের সিমান্ত গ্রামের নাম চাকদহ। এই দুই উপজেলাকে বংশাই নদী পৃথক করলেও দুইপাড়ের মানুষের বন্ধনকে অটুট রেখেছে এই নদীর উপর নির্মিত বাঁশের একটি সাঁকো। 

স্বাধীনতার আগে থেকেই বংশাই নদীর তীরবর্তী চাকদহ গ্রামের হাটটি দুই উপজেলার ৩১ গ্রামের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই হাটে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বংশাই নদীর উপর রাশড়া-চাকদহ এলাকা নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে এসব গ্রামের মানুষ বংশাই নদীর উপর এই এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছে। জনপ্রতিনিধিরা গ্রামবাসীকে প্রতিবারই সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্তও তা পূরণ হয়নি। 

বংশাই নদীর পূর্বপাড়ে  চাকদহ, রতনপুর, আগ-চাকদহ, বালিয়াহাটা, যাদবপুর, হাতিবান্ধা, কুমিরাজুড়ি, কামিলিয়াসহ প্রায় দশ গ্রামের লোকজন বর্ষা মৌসুমে খেয়ানৌকা এবং বাকিসময় এই বাঁশের সাঁকোয় পাড়াপার হয়ে বাসাইল এবং জেলাশহর টাঙ্গাইলে যাতাযাত করে। তাছাড়া বংশাই নদীর পশ্চিম পাড়ে রাশড়া, সৈদামপুর, মিরিকপুর, ঢংপাড়া, হালুয়াপাড়া, কাঠাঁলতলী, পূর্বপৌলী, সিংগারডাক, যৌতুকী, তারাবাড়ি, কাঞ্চনপুর দক্ষিনপাড়া, ব্রাক্ষনপাড়িল, হান্দুলীপাড়া,ডৌহাতুলিসহ একুশ গ্রামের মানুষের সাপ্তাহিক হাটের একমাত্র ভরসা ওই চাকদহ হাট। যেখানে একইভাবে বর্ষায় নৌকা এবং বছরের বাকি সময়টাতে বাঁশের সাঁকোতেই পারাপার হতে হয়। 

পরিবহনে সুবিধা না থাকায় একদিকে এসব এলাকার কৃষিপণ্যগুলো ন্যায্যমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না এলাকার কৃষকরা। অপরদিকে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। চাকদহ হাটের পাশের সাড়ে তিন কি.মি. এর মধ্যে তেমন কোন হাট বা বাজার না থাকায় এসব এলাকার মানুষ জরুরি প্রয়োজনে প্রায় সাড়ে নয় কিলোমিটার ঘুরে বাসাইল বা সখিপুর পৌর এলাকায় যাতায়াত করে। কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এসব এলাকার লোকজনের পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। চিকিৎসা এবং সরকারি বিভিন্ন কাজে উপজেলা এবং জেলায় যাতায়াতে প্রতিনিয়্তই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

এ ব্যাপারে সখিপুর উপজেলার হাতিবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রায় শত বছরের পুরাতন চাকদহ হাটের পাশে বংশাই নদীর উপর একটি সেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এই সেতু হলে সরাসরি বাসাইল তথা টাঙ্গাইলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। এতে করে রোগীসহ সবার ভোগান্তি লাঘব হবে। 

স্থানীয় হাটের ইজারাদার সোরহাব হোসেন বলেন দেড়লক্ষাধীক মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকো। এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ৩১ গ্রামের মানুষের যাতায়াত করে থাকে। এখানে সাঁকোর বদলে সেতু হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী রুজদদি আহমেদ বলেন, পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ সমীক্ষা প্রকল্পের আওতায় সেতুর এ্যাপ্রাইজার ফরমেটসহ সড়কের তথ্য চাওয়া হয়। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) এর এমপি জোয়াহেরুল ইসলামের সুপারিশে রাশড়া-চাকদহ গ্রামীণ সড়কের চাকদহ হাটসংলগ্ন বংশাই নদীর উপর দুইশত মিটার একটি সেতুসহ এগারোটি সেতুর চাহিদা সদরদফতরে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে এলজিইডি’র নতুন প্রকল্পে এই সেতুর জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকার একটি বরাদ্দ দেয়া হবে। বরাদ্দ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে বাসাইল-সখিপুরের সংযোগ সড়কের অভাব খুব দ্রুত লাঘব হবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, বংশাই নদীর উপর দেড়শ ফিট একটি সেতুসহ এই এলাকার সড়ক পাকাকরণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। দ্রুতই এটির কাজ শুরু করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/জেএইচ