ফুলগাজীতে সন্তান জন্ম দেয়া ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার সমাজচ্যুত, তদন্তের নির্দেশ

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

ফুলগাজীতে সন্তান জন্ম দেয়া ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার সমাজচ্যুত, তদন্তের নির্দেশ

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৬ ৩ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১০:৪৭ ৩ মার্চ ২০২১

ফুলগাজীতে সন্তান জন্ম দেয়া ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার সমাজচ্যুত, তদন্তের নির্দেশ

ফুলগাজীতে সন্তান জন্ম দেয়া ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার সমাজচ্যুত, তদন্তের নির্দেশ

ফেনীর ফুলগাজীতে ধর্ষণের শিকার হয়ে সন্তান জন্ম দেয়ায় কিশোরীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা তদন্ত করে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহিম জাস্টিস অব দি পিস এর কর্তৃত্ব বলে এই আদেশ জারি করেন।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের উদ্বৃতি দিয়ে পাঠানো ওই আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক দেশের প্রতিটি নাগরিকের চলা ফেরার স্বাধীনতা, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত। কথিত সমাজপতি কর্তৃক কাউকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বে আইনী ও মৌলিক মানবাধিকার পরিপন্থী। এমতাবস্থায় উক্তরূপ প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা আছে কিনা তাহা তদন্তপূর্বক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ এর ২৫ ধারার অনুবলে জাস্টিস অব দি পিস এর কর্তৃত্ব বলে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
 
এর আগে ফেনীতে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় কনস্টেবল গ্রেফতার ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীর সন্তান জন্ম, বিচারে সমাজচ্যুত পরিবার শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে ফেনীসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

ফেনীর আদালতের ফোকাল পার্সন ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন জানান, ফেনীতে জাস্টিস অব দি পিস এর কার্যালয় থেকে এটি প্রথম আদেশ। এ ধরনের কোনো আদেশ এর আগে ফেনীর আদালত থেকে হয়নি। ১ মার্চ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুর রহীম স্বাক্ষরিত আদেশটি (২ মার্চ) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও ওসি ফুলগাজীর নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

কিশোরীর পরিবারের দাবী, আমরা ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো সমাজচ্যুত হলাম। এখন কেউ আমাদের সাথে কথা বলেনা। সবাই আমাদেরকে এডিয়ে চলছে। বাজারে আমাদের ইলেকট্রিক দোকানটিও খোলা যাচ্ছে না।

ফুলগাজী থানার ওসি কুতুব উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশনা এখনো হাতে পাইনি। আমরা মঙ্গলবারও খবর নিয়েছি। এখন ওই পরিবারের সামাজিক কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছেন। এরপরও সমস্যা হলে আমাদেরকে তাৎক্ষণিক জানাতে অনুরোধ করে এসেছি।

ওসি আরো জানান, যখন ওই কিশোরীর সন্তান হয়েছে তখন হয়তো তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। এখন মোটামুটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক আগে ফুলগাজীর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বশিকপুর চৌকিদার বাড়ির আমিনুল ইসলামের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওন প্রেমের সম্পর্কের জেরে ওই কিশোরীকে ফেনীর একটি বাসায় এনে নেশাজাতীয় পণ্য খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে।

১২ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণে শিকার ওই কিশোরী একটি সন্তান প্রসব করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। কিশোরীর স্বজনরা পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তারা এড়িয়ে যায়। পরিবারের সম্মতিতে সন্তানটিকে দত্তক দিয়ে দেয়া হয়। এদিকে স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি জানতে পেরে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বৈঠকে বসেন। সেখানে কিশোরীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

২৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরীর মা ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে আদালত ২২ ধারায় কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই দিন কনস্টেবল শাওনকে তার বর্তমান কর্মস্থল রাঙ্গামাটি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস