বাড়িতে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৩ পুলিশ কারাগারে 

ঢাকা, সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৬ ১৪২৮,   ০৬ রমজান ১৪৪২

বাড়িতে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৩ পুলিশ কারাগারে 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০২ ২ মার্চ ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পিস্তল ঠেকিয়ে নারীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার তিন পুলিশ সদস্যকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত এসপি মো. রফিকুল ইসলাম।

তারা হলেন- এসআই নুর-ই খোদা ছিদ্দিকী, কনস্টেবল আমিনুল মমিন ও মামুন মোল্লা।

অতিরিক্ত এসপি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, একজন নারী তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন। যেটি ফৌজদারি অপরাধ। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। পুলিশ বলে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই ।

সোমবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা খাতুন এই ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় একজনকে আটক করা হয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ার রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা খাতুন গ্যাসের দোকান করার জন্য তার আত্মীয়-স্বজন থেকে সোমবার তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন।

বিকেলে অটোরিকশায় ৫/৬ জন সাদা পোশাক পড়া লোক তার বাড়িতে যায়। পরে তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে টাকা দাবি করে। রোজিনা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বেধড়ক মারধর করে সাদা পোশাক পরিহিত লোকজন।

এক পর্যায়ে রোজিনা তার কাছে থাকা তিন লাখ টাকা সাদা পোশাকধারী পুলিশের হাতে তুলে দেন। এসময় রোজিনার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে অটোরিকশা থেকে একজনকে ধরে ফেলে।

পরে ৯৯৯ এ  ফোন করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

পরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সবাইকে বিষয়টি অবগত করে তদন্তে নামে। একপর্যায়ে সোমবার রাতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত কক্সবাজার সদর থানায় অবস্থান নেয় জেলা পুলিশের এসপি হাসানুজ্জামান।

সাদা পোশাকধারী পুলিশের ছিনতাইয়ের শিকার রোজিনা খাতুনের স্বামী রিয়াজ আহমেদ জানান, কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে গ্যাসের দোকান করার জন্য আমার স্ত্রী এই টাকাগুলো তার আত্মীয়-স্বজন থেকে সংগ্রহ করেন।

পরে বাড়ি ফিরলে সিএনজি করে ৫/৬ জনের একটি দল বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ৯৯৯ -এ ফোন করে বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে আটককৃত একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস