কয়েদি নেই, আছে গরু-ছাগল

ঢাকা, বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৩ ১৪২৮,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

কয়েদি নেই, আছে গরু-ছাগল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৩৪ ২ মার্চ ২০২১  

কারাগারে ছাগল

কারাগারে ছাগল

সাধারণত অপরাধীদের পাঠানো হয় কারাগারে। যেন নিজেকে সংশোধন করতে পারেন। কারাগার মানেই শাস্তিমূলকভাবে বন্দি করে রাখা। তবে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় উপকারাগারে নেই কোনো অপরাধী কিংবা কয়েদি। এখানে রয়েছে গরু আর ছাগল।

প্রায় ১২ দশমিক ২ একর জমির ওপর আশির দশকে অত্যন্ত সুরম্য প্রাচীর দিয়ে এ উপকারাগারটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ৪০ বছরেও নিবাস হিসেবে কোনো কয়েদির দেখা পায়নি। কারাগারটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকলেও ২০১৮ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বর্তমানে এটির নিয়ন্ত্রণ করছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। কিন্তু এখানে সপরিবার নিয়ে থাকেন সমাজসেবা কার্যালয়ের একজন কর্মচারী।

কারাগারে পালন করা হয় গরু

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপকারাগারটির প্রবেশপথে দেহরক্ষী থাকার কথা থাকলেও রয়েছে দুটি ছাগল। মূল ফটকে ঢুকতেই চোখে পড়বে নারী কয়েদির ওয়ার্ড। একটু সামনে গেলেই পুরুষ ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে কয়েদি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে কয়েকটি গরু। পাশেই রয়েছে মুরগি পালনের ছোট একটি খামার। হাঁস, মুরগি, গরু আর ছাগল পালনের খামার হিসেবেই বর্তমানে কারাগারটি ব্যবহার করছেন জেলা সমাজসেবা অফিসের একজন নাইট গার্ড।

দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দেয়াল থেকে খসে পড়ছে ইট-সিমেন্ট। দরজা-জানালার কাঠগুলো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। কর্মচারীদের তিন কক্ষের কোয়ার্টারটিও দখলে নিয়েছে স্থানীয়রা।

খোকসা উপকারাগার

জেলা সমাজসেবা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে দেশের ১৭টি জেলায় ২৩টি উপকারাগার নির্মাণ করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর মধ্যে একটি হলো কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার উপকারাগারটি।

কারাগারটি বর্তমানে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খোকসা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানে রয়েছে একটি প্রবেশপথ, দুটি কয়েদি রাখার হলরুম, দুটি সাক্ষাৎকার কক্ষ, একটি স্টোর রুম, দুই কক্ষের একটি অফিস। তিন কক্ষের একটি কোয়ার্টার। রয়েছে বেশ কয়েকটি টয়লেট।

স্থানীয় দিনমজুর মাসুদ শেখ বলেন, কারাগারটি বানানোর সময় আমি শ্রমিকের কাজ করেছিলাম। কিন্তু আজও এটি কাজে লাগেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, অনেক টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারাগারটি দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খোকসাবাসীর দাবি, কারাগারটি দ্রুত চালু করা হোক।

কারাগারের ভেতর ছাগল

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোকসানা পারভীন বলেন, উপকারাগারটি নানা জটিলতায় আজও চালু হয়নি। তবে প্রতীকী মূল্যে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কিশোর শোধনাগার বা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ডিসি বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেল সুপার তায়েফ উদ্দিন মিয়া বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে এ উপকারাগারটি কিশোর শোধনাগার বা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তর করে সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর