সজনে ডাঁটায় বাড়ছে সচ্ছলতা

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

সজনে ডাঁটায় বাড়ছে সচ্ছলতা

মাসুম হোসেন, বগুড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২৮ ২ মার্চ ২০২১  

সজনে গাছে ফুল

সজনে গাছে ফুল

পুষ্টিতে ভরা সজনে গাছের ডালে ডালে ফুটেছে ফুল। আভাস দিচ্ছে বাম্পার ফলনের। মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও বাগান ঘুরে কিনছেন আগাম সজনে ডাঁটা। তবে ভয় রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের। বাকি সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক বছরের তুলনায় এবার সজনে উৎপাদন হবে অনেক বেশি। এমনই আশা চাষিদের। সব মিলিয়ে চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সজনে ডাঁটার ফুল।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহর ও আশপাশের গ্রামে গাছে গাছে প্রচুর সজনে ডাঁটার ফুল এসেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন বাজারে সজনে ডাঁটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সজনের ডাঁটা সান্তাহার থেকে রাজধানীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় যাচ্ছে। বাজারে অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনের দামও বেশি।

সজনে চাষি ফজলুল হক ও সবুজ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। এছাড়া উপজেলায় অনেকে সজনের চাষ করে বেকারত্ব দূর করেছেন।

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদা সুলতানা বলেন, সজনের ডাঁটায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। তবে ভিটামিন ‘বি’ এর পরিমাণ বেশি। এটি এন্ট্রি অক্সিজেন হিসেবে কাজ করে বলে উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া ব্লাড সুগার কমায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী।

তিনি আরো বলেন, সজনের ডাঁটায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম রয়েছে। এতে হাড় মজবুত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সজনে আঁশযুক্ত খাবার হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। আর মুখের রুচিও বাড়ায় এই সজনে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সজনের ডাঁটা প্রধানত দুই প্রজাতির হয়। এর মধ্যে এক প্রজাতি বছরে তিন-চারবার চাষ হয়। স্থানীয়ভাবে এর নাম রাইখঞ্জন। পতিত জমি, পুকুর পাড়, রাস্তা বা বাঁধের ধারে আঙিনায় এমনকি শহরের যেকোনো ফাঁকা জায়গায় সজনের চাষ হয়।

সজনে চাষের জন্যে এর কোনো বীজ বা চারার প্রয়োজন হয় না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে রাখলেই সজনে গাছ জন্ম নেয়। এ গাছের পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না। বড় বা মাঝারি ধরনের একটি গাছ থেকে ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া যায়। বিশেষ করে আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের মাটি, পানি ও আবহাওয়া সজনে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় সান্তাহার পৌর শহর ও এর আশপাশের এলাকার এসব গাছ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার টন সজনে উৎপাদন হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, আদমদীঘি উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া সজনে চাষের জন্যে উপযোগী। বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর