উপার্জনের পা উড়ে গেল বিস্ফোরণে

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

উপার্জনের পা উড়ে গেল বিস্ফোরণে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৭ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:৩৪ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ -ফাইল ছবি

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ -ফাইল ছবি

বেলুন বিক্রেতা ইউনুস আলী। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন দুই পায়ে ভর করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন বেলুন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়েই চলত সংসার। কিন্তু তার একটি পা উড়ে গেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে।

ইউনুস আলীর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার আব্দুল কাদেরের ছেলে। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

শনিবার বিকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাজারে সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভরছিলেন ইউনুস। এ সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের অর্ধেক উড়ে যায়। শুধু ইউনুসই নয়, বিস্ফোরণে তার তিন সহকর্মীসহ আরো চারজন দগ্ধ হয়েছেন।

আহত অন্যরা হলেন- বেলুন বিক্রেতা ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার রহমতপুর এলাকার সাব্বির হোসেন, একই জেলার রানীশংকৈল এলাকার হাফিজুল ইসলাম ও নওগাঁ সদর উপজেলার রাব্বি হোসেন। বিস্ফোরণে তেঁতুলিয়া উপজেলার ফয়সাল আহমেদ নামে এক কিশোরও আহত হয়েছেন।

দগ্ধ পাঁচজনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন পুলিশ ও তেঁতুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দগ্ধ বেলুন বিক্রেতা ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন জেলার ছয়জন বেলুন বিক্রেতা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আব্দুর রহিমের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেখান থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে বেলুন বিক্রি করতেন তারা। শনিবার বিকেলে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এ সময় চার বেলুন বিক্রেতা ও স্থানীয় এক কিশোর দগ্ধ হন। বেলুন বিক্রেতা ইউনুস আলীর ডান পায়ের অর্ধেক বিস্ফোরণে উড়ে যায়। বাকি চারজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে।

পঞ্চগড়ের এসপি মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভর্তি করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন দগ্ধ হন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর