এক যুগ পর প্রথম সন্তান, কোলে নিতে পারলেন না মা

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৫ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

এক যুগ পর প্রথম সন্তান, কোলে নিতে পারলেন না মা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৭ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:৪১ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেয়া নারীর ছবি

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেয়া নারীর ছবি

দীর্ঘ ১২ বছর নিঃসন্তান জীবন কাটিয়েছেন আব্দুল মাজেদ-সাবিতা খাতুন দম্পতি। অবশেষে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন সবিতা। কিন্তু ভূমিষ্ঠের ছয় ঘণ্টা পার না হতেই চুরি হয়ে যায় নবজাতকটি। বুকের ধন হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা।

শনিবার বিকেল তিনটার দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুর সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের নবজাতক চুরি হয়। পরপর দুই নবজাতক চুরি হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

মাজেদ-সাবিতা দম্পতির বাড়ি জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে। প্রসব বেদনা নিয়ে শনিবার ভোরে সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন সাবিতা। সকাল ৯টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্ম দেন তিনি। সিজারের পর শিশু ওয়ার্ডে মা ও নবজাতককে রাখা হয়। নবজাতকের নাম রাখা হয় সামিউল। এটিই তাদের প্রথম সন্তান।

হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, নবজাতককে কোলে নিয়ে বসে আছেন তার নানি। এ সময় শিশুকে কোলে নিতে চান বোরকা পরা এক নারী। পরে নবজাতককে কোলে নিয়েই দীর্ঘ সময় ঘোরাফেরা করেন ওই নারী। একপর্যায়ে সুযোগ বোঝে শিশুকে নিয়ে সটকে পড়েন তিনি।

নবজাতকের নানি বলেন, ‘বোরকা পরা ওই নারী এসে বললেন- এ হাসপাতালেই তার ভাইয়ের ছেলে হয়েছে। কিন্তু তাকে কোলে নিতে দিচ্ছেন না। তাই আমার নাতিকে কোলে নিতে চাইলে তাকে দেই। একপর্যায়ে কেউ ডাকছে বলে আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে নাতিকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী। তাকে আমি চিনিও না’।

নবজাতকের বাবা আব্দুল মাজেদ বলেন, আমার স্ত্রীকে শনিবার ভোর তিনটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ বছরের প্রচেষ্টার পর আমার প্রথম সন্তান হলো। কিন্তু সন্তানকে কোলেও নিতে পারলাম না। এর আগেই চুরি হয়ে যায়। আমার শাশুড়ি ও শ্যালিকার কাছেই শিশুটি ছিল।

সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, শিশুটি তার নানির কোলে ছিল। তার কাছ থেকে একজন নারী কোলে নিয়ে রাখেন। এরপর তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি।

সলঙ্গা থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির সন্ধানে কাজ করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর