নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৪ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৫তম জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ।

এ উপলক্ষে নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে কোরানখানি, র‌্যালি, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, শ্রদ্ধাঞ্জলি, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার, কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, দোয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নড়াইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আওয়ামী লীগের নেতারা। পরে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা হয়।

প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, নড়াইল সদরের ইউএনও সালমা সেলিম, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট এস এ মতিন, জাতীয় মহিলা সংস্থা নড়াইল
জেলা শাখার চেয়ারম্যান সালমা রহমান কবিতা, জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, রওশন আরা কবির লিলি ও নাজনিন সুলতানা রোজী।

পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা।

১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। বর্তমানে যেটি ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) নামে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন তিনি। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর এসএ মঞ্জুর। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হোন নূর মোহাম্মদ। তাকে সমাহিত করা হয় যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন।

২০০৮ সালের ১৮ মার্চ তার গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। সেই থেকে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে। এই বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’, ‘স্মৃতিস্তম্ভ’, ‘স্কুল এবং কলেজ’ এবং নড়াইল শহরে ‘স্টেডিয়াম’।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিস্তারে এবং খেলাধুলা চর্চার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে এসব প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নূর মোহাম্মদ নগরে এই বীরশ্রেষ্ঠের নামে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

নূর মোহাম্মদ শেখের দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা বার্ধক্যজনিত কারণে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এর আগে ১৯৯০ সালে নূর মোহাম্মদ শেখের প্রথম স্ত্রী তোতা বিবি মারা যান। বর্তমানে ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে নড়াইল এবং যশোরে বসবাস করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর