মেয়েকে ধর্ষণের পর মাকেও রাত কাটানোর প্রস্তাব

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

মেয়েকে ধর্ষণের পর মাকেও রাত কাটানোর প্রস্তাব

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৬ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৩১ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক মাদরাসাছাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভুক্তভোগী মেয়ের মাকেও শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

প্রায় দুই মাস ধরে উপজেলার আলাইয়ারপুরে হীরাপুর গ্রামের ওই ছাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একই গ্রামের কাজী সিরাজের ছেলে ফয়সাল, লেলন মিয়ার ছেলে জোবায়ের, নূর ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ইমন ও কামাল হোসেনের ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ইমন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী মেয়েটির মা জানান, তার মেয়ে ২০১৮ সালে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে মাদরাসায় আসা-যাওয়ার সময় ফয়সাল, জোবায়ের, ইমন ও রাসেল উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর তাদের পরিবার, ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ও মেম্বার আব্দুল কাদেরকে জানান তিনি।

ছাত্রীর মা বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বিচার দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ কৌশলে আমার ঘরে ঢুকে ফয়সাল ও জোবায়ের। ওই সময় আমার ঘরে থাকা কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক কিছু মিশিয়ে রাখে। রাতে সেই পানি খাওয়ার পর আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। এরপর রাত ২টার দিকে ফয়সাল ও জোবায়ের ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে রাখে।

ওই রাতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে আমার ঘরে এনে বিবস্ত্র করে মেয়ের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তারা। এরপর তারা আমার আলমারি থেকে ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও দুটি আংটি নিয়ে যায়। এরপর থেকেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা নিতে থাকে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, নিজের সম্মান রক্ষার্থে লক্ষ্মীপুরে আমার মেয়েকে বিয়ে দেই। আমার মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেড়াতে এলে ২০২০ সালের ৫ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে আমার ঘরে ঢোকে ইমন ও রাসেল। এরপর তারা আমার মুখে রুমাল চেপে ধরে অচেতন করে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর তিন মাস পর রাসেলকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার মিরপুর-২ এর ৭ নম্বর রোডের ৩ নম্বর গলির জান্নাত নামে এক নারীর কাছ থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ওই তিন মাসে আমার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাসেল।

তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের ২০ জুন ফের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার মেয়েকে ঢাকায় জান্নাতের কাছে নিয়ে যায় রাসেল ও ইমন। পরে লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এরপর বিভিন্ন সময় ইমন আমার বাড়িতে এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

সর্বশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার মেয়েকে আবারো নিয়ে যায় রাসেল। এখন সে কোথায় আছে, কীভাবে আছে জানি না। গত সপ্তাহে এক লাখ টাকা দিতে প্রস্তাব দিয়েছে রাসেল। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

এছাড়া মেয়ের সন্ধান চাইলে আমাকে নিজের সঙ্গে এক রাত কাটানোর প্রস্তাব দেয় ইমন। তার সঙ্গে রাত কাটালে মেয়ের সন্ধান দেবে বলেও জানায়। ইমনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলিনি। এবার থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছি না। বর্তমানে অসহায় হয়ে সাংবাদিকদের সাহায্যে পুনরায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদের বলেন, বিষয়টি শুনেছি। গত বছরের অক্টোবর মাসে মেয়ের মা বিষয়টি জানান। সর্বশেষ গত দুই মাস ধরে মেয়েটি নিখোঁজ রয়েছে বলেও শুনেছি।

আলাইয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, তারা সবাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে ওই মেয়ের বিষয়ে আমি কিছুই শুনিনি। তবে আগের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতাম।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, রাতেই ইমন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারপূর্বক ওই মাদরাসাছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর