চার স্ত্রীর পর প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সায়েম

ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৩ রজব ১৪৪২

চার স্ত্রীর পর প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সায়েম

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

আবু সায়েম

আবু সায়েম

ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি আবু সায়েম। তবে তিনি নিজেকে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। নারী সঙ্গ তার খুবই প্রিয়। পোশাক-পরিচ্ছেদে সায়েম নিজের সৌন্দর্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নারী পটান বলে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন। তাই সব নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তিনি একের পর এক বিয়ে করেই চলেছেন। 

এভাবে তিনি আটটি বিয়ে করেছেন। কখনো বিয়ে না করেও নারীদের সঙ্গে বিয়ে বহির্ভূত সর্ম্পকে জড়িয়ে যান। সায়েমের প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানের জননী শাহানাজ পারভীন সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন।  স্বামীর এসব বেআইনি, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাট জেলা জজ কোর্টে একটি মামলা করেন। 

সায়েম লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউপির নবীনগর এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে। সায়েমের ৮ বিয়ের বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালে সায়েমের সঙ্গে শাহানাজ পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের বাহানা। যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের মধ্যেই দুই সন্তানের জননী হন শাহানাজ। এরপর প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই চুয়াডাংগার দবির উদ্দিনের মেয়ে লিপি বেগমকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে তোলেন।

শাহানাজ পারভীন তখন উপায় না পেয়ে সবকিছু মেনে নিয়ে সংসার করেন। প্রথম স্ত্রীর ভাষ্যমতে দ্বিতীয় স্ত্রীকেও সায়েম নির্যাতন করতে শুরু করেন। নির্যাতনের মাত্রা এতবেশি বেড়ে যায় যে, বিয়ের ২ বছরের মাথায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর সায়েম লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায় তৃতীয় বিয়েটি করেন। জানা গেছে, সায়েমের তৃতীয় স্ত্রী হাতীবান্ধার সিংগিমারী এলাকার মিয়াজানের মেয়ে কেয়া মনি। পরে শ্বশুর ৭০ হাজার টাকায় রফাদফা করে কেয়া মনিকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।  

সায়েম এরপর চতুর্থ বিয়ের জন্য অস্থির হয়ে উঠেন। এই অস্থিরতার মধ্যে সায়েমের নজর পড়ে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরায় প্রতিষ্ঠিত কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষিকা সাজেদা আক্তার কবিতার উপর। শুরু হয় প্রেমের অভিনয়। এক পর্যায়ে গরীব ঘরের মেয়ে কবিতাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান সায়েম।

সায়েম কবিতাকে নিয়েই আছেন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। এরপর সায়েম কুড়িগ্রামে গিয়ে বিয়ে করেন। পরে কুড়িগ্রাম থেকে ওই মেয়ের বাবা সায়েমের প্রথম স্ত্রীর কাছে এসে সবকিছু জেনেশুনে ফিরে গিয়ে মেয়েকে ছাড়িয়ে নেন।

সায়েমের এসব কর্মকাণ্ডের খোঁজ নিতে তার এলাকায় গেলে বেড়িয়ে আসে আরো অনেক তথ্য। এলাকার অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ। এলাকাবাসীদের মতে, সায়েম নারীলোলুপ, ঠক ও প্রতারক টাইপের। অনেকের কাছে বিভিন্ন ছলনায় টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। এখন সে কবিতা নামের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বললে সায়েম বলেন, তাহলে আপনারা এখন কি করতে চান? আপনাদের কি করার আছে? আদালতে মামলা করেছে, বিষয়টি আদালত দেখবে।

আবু সায়েমের মতে, তার স্ত্রী মামলা করেছেন সেটা আইন আদালতের বিষয়। তবে একাধিক বিয়ের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন নাই।

এ বিষয়ে বাউড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন জানালেন, শুনেছি সায়েম নামের ওই যুবক সাজেদা বেগম কবিতাকে নিয়ে পালিয়েছে। আমি সাজেদা বেগমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এর বেশি কিছু জানি না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস