চোখ থেকেও পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭,   ১৩ রজব ১৪৪২

চোখ থেকেও পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৯ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী আসাদুল

প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী আসাদুল

যারা অসহায় কিংবা কাজ করতে পারেন না, তাদেরই দুস্থ ভাতা পাওয়ার কথা। আর প্রকৃত প্রতিবন্ধী যারা, তারা পাবেন প্রতিবন্ধী ভাতা। নিয়ম এমন হলেও কুষ্টিয়ার মিরপুরে এসব ভাতা পাচ্ছেন সুস্থ-সচ্ছলরা। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত ভাতাভোগীরা।

স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সুস্থ-সচ্ছলদের এসব ভাতা দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। এমনই অভিযোগ উপজেলা সমাজসেবা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের রমজান আলীর ছেলে মোবারক হোসেন। পেশায় নসিমনচালক। দীর্ঘ আট বছর ধরে নিয়মিতভাবে সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি চালান তিনি। তার চোখ থেকেও গত এক বছর ধরে নিয়মিত পাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর ভাতা।

জানতে চাইলে মোবারক বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বাড়ির কেউ হয়তো আমার নামে টাকা তোলেন।

নসিমন চালাচ্ছেন মোবারক

আমকাঠালিয়া গ্রামের আসাদুলের ছেলে থাকেন বিদেশে। শারীরিকভাবে সুস্থ আসাদুল থাকেন পাকাবাড়িতে। এরপরও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা তুলছেন তিনি।

প্রতিবন্ধী ভাতার কথা জানতে চাইলে আসাদুল বলেন, একটি কার্ড করে দেয়ার কথা আমি নিজেই তাদের বলেছি। কাগজপত্র দিলে আমাকে তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কার্ড করে দেন।

একতারপুর গ্রামের সুরত আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তিনি সচ্ছল ও সুস্থ। পেশায় ব্যবসায়ী। প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়ে কথা বলতে গেলে নুর ইসলাম বলেন, আমার পায়ের সমস্যা। ঢাকায় ডাক্তার দেখিয়েছি। ওষুধপত্র খেলে চলাফেরা করতে পারি। ওষুধ না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পায়ের সমস্যার জন্য আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই।

আসাদুলের বাড়ির গেট

শুধু মোবারক, আসাদুল আর নুর ইসলামই নন মিরপুরে এমন কয়েকশ সুস্থ মানুষ নিয়মিত পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা। আর অনৈতিক কাজটি জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশেই হচ্ছে বলে দাবি সমাজসেবা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

কুষ্টিয়ার মিরপুরের ১৩ ইউনিয়ন এবং এক পৌরসভায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বছরে ৯ হাজার টাকা করে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পান। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ বেশ পুরনো। এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বিস্তর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামসেদ আলী বলেন, এ তালিকা ইউনিয়ন কমিটি থেকে আনা হয়। তাই এ বিষয়ে কমিটি ভালো বলতে পারবে। তবে এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের কারচুপি থাকতে পারে।

বাড়ুইপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদার আলী বলেন, সমাজসেবা থেকে বলার পর আমরা চৌকিদার দিয়ে এলাকা থেকে লোক ডেকে আনি। এরপর তারা যাচাই-বাছাই করে নামের তালিকা করেন। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।

ইউএনও লিংকন বিশ্বাস বলেন, অনেকেই প্রতিবন্ধী হওয়ার অভিনয় করেন। এজন্য সবসময় সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর