প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতিতে স্কুলের সভাপতি হলেন অবিবাহিত ব্যক্তি

ঢাকা, বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭,   ১৮ রজব ১৪৪২

প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতিতে স্কুলের সভাপতি হলেন অবিবাহিত ব্যক্তি

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৬ ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

বলরাম ঘোষ ও প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন

বলরাম ঘোষ ও প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন

যশোরের চৌগাছায় শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ থাকা সত্বেও পরিপত্র লঙ্ঘন করে বলরাম ঘোষ নামে এক অবিবাহিত যুবককে অবৈধভাবে অভিভাবক সাজিয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি বানিয়েছেন স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বহিলাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন।

৬ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে জারি করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের শর্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি সভাপতি হওয়া তো দূরের কথা, সদস্যই থাকতে পারবেন না।

ঘটনাটি ২০২০ সালের। বহিলাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অভিভাবকদের মতামত না নিয়ে জালিয়াতির
মাধ্যমে বলরাম ঘোষকে সভাপতি বানানোর উদ্যোগ নেন প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন। ওই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি বলারাম ঘোষের ভাগনিকে স্কুলে নামকাওয়াস্তে ভর্তি দেখিয়ে বলরাম ঘোষকে অভিভাবক সাজিয়ে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য স্থানীয় এমপির কাছে চিঠি পাঠান তাছলিমা। অথচ বলারাম ঘোষের ভাগনি কখনোই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল না।

একই বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন আব্দুল লতিফ নামে এক অভিভাবক। সে সময় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আস্বস্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল। এরপর ওই বছরের ২৫ অক্টোবর ওই অবিবাহিত যুবককেই সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ওই চৌগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আব্দুল লতিফ। পরে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুনের বক্তব্য নেয়া হয়। তিনি বলেন, তিন-চার মাস আগে গ্রামের লোকজন ডেকে তাদের পরামর্শে বলরাম ঘোষকে সভাপতি বানানো হয়েছে। অভিভাবক নয়, এমন কাউকে সভাপতি বানানোর নিয়ম নেই তা আমার জানা ছিল না।

তিনি আরো বলেন, আপনারা এ বিষয়ে ঝামেলা করছেন কেন? দেড় বছরই তো। দেড় বছর পর আবার যখন কমিটি হবে তখন ঠিক করে দেব। আপনারা আর ঝামেলা করবেন না প্লিজ।

প্রধান শিক্ষক তাছলিমাকে কল করায় ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিবেদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তার স্বামী উপজেলা বিএনপির কর্মী ও একাধিক মামলার আসামি মহসিন আলী ওরফে গ্যাড়া মহসিন। এ প্রতিবেদককে মোবাইলে কল করে তিনি বলেন, আমার বৌয়ের মোবাইলে ফোন দিয়েছিস কেন? তুই আমার বৌয়ের মোবাইলে কল দেয়ার কে? তুই কি এমপির চেয়েও বেশি বুঝিস? বেশি বাড়াবাড়ি করলে শেষ করে ফেলব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বলরাম ঘোষকে অবৈধভাবে স্কুল কমিটির সভাপতি করার পেছনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রধান শিক্ষক তাছলিমার স্বামী মহসিন। তিনিই এমপিকে ভুলভাল বুঝিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর নেন। পরে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করে অনুমোদনপত্রটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, একজন অভিভাবক বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর