‘চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে চাই’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

‘চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে চাই’

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৭ ২৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:১৩ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী

‘চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে চাই। এজন্য সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা করে যেটা বাস্তবসম্মত হবে সেটাই গ্রহণ করবো।’

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় নগরীর বহদ্দারহাটে নিজ বাসায় নির্বাচনে জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

মেয়র বলেন, এককভাবে নয়, সবাইকে নিয়ে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে চাই। এককভাবে করলে ভুলত্রুটি থেকে যায়। চট্টগ্রামে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ আছেন, সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ আছেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, তাদের পরামর্শ নিয়ে, যে পরামর্শ টেকসই হবে, বাস্তবসম্মত হবে সেটাকে গ্রহণ করে চট্টগ্রামকে সাজাতে চাই।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অনেক সমস্যা আছে। ওয়ার্ডগুলোতে-মহল্লায় অনেক দরিদ্র মানুষ বসবাস করে। একজন রিকশা চালকেরও মেধা আছে, বুদ্ধি আছে। আর্থিক সমস্যার কারণে সে হয়তো উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। তার বুদ্ধিও অনেক সময় কাজে লাগতে পারে। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। আর এককভাবে যদি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাহলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমি এলাকার সব মানুষকে ডাকবো। মহল্লা সর্দার থেকে আরম্ভ করে এলাকার গণ্যমান্য লোক-সবার পরামর্শ নেবো। আপনার এলাকার কি সমস্যা আছে সেটা আপনিই চিহ্নিত করতে পারেন। বাইরের কেউ এসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই এলাকার মানুষই এলাকার সমস্যাগুলো দেখিয়ে দেবে। তারপর এসব সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়, তাদের পরামর্শ নিয়ে এবং যে পরামর্শ গ্রহণযোগ্য হবে, যে পরামর্শ ওই এলাকা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার জন্য প্রযোজ্য হবে-সেটাই গ্রহণ করবো ও বাস্তবায়ন করবো। তখন কেউ আর এককভাবে মেয়রকে দোষারোপ করতে পারবে না।

নতুন প্রজন্ম প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমার চিন্তা নতুন প্রজন্মকে নিয়ে। আমাদের শিশুরা স্কুলে যায়, দুপুরে খেয়েদেয়ে ঘুমায়, বিকেলে শিক্ষক আসে। খেলাধুলার কোনো জায়গা নেই। মোবাইল নিয়ে তারা বসে থাকে। তাই আমি চিন্তা করেছি-প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে যদিও খেলার মাঠ করা সম্ভব নয়, যেখানে সরকারি অনেক জায়গা আছে; চেষ্টা করবো ছোট হোক বা বড় হোক, যদি খেলার মাঠ করে দেয়া যায়, তাহলে আমাদের শিশুরা সেখানে গিয়ে খেলতে পারবে।

যুবসমাজকে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তি থেকে সরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং-এর কথা বলা হয়। আজ যুবসমাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে। কেন হচ্ছে? তারা আসলে কোনো ভালো পরিবেশ পাচ্ছে না। যদি সংস্কৃতি চর্চার দিকে তাদের ধাবিত করতে পারি, তাহলে অনেকাংশে আমাদের যুবকদের সেখান থেকে সরিয়ে আনতে পারব। তাই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় যতটুকু পারা যায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার একটা চিন্তা-ভাবনা আমার আছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বুকে সাহস নিয়ে বলছি, চট্টগ্রামে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যিনি বলতে পারবেন- রেজাউল করিম চৌধুরী অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, অনৈতিক কাজ করেছে, কারো ওপর নির্যাতন-অত্যাচার-জুলুম করেছে। নীতি বিসর্জন দিয়ে কোনো কাজ করিনি। স্বকীয়তা নিয়ে রাজনীতি করেছি। ভবিষ্যতেও স্বকীয়তা বজায় রেখেই রাজনীতি করে যাব।

নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন না থাকলে কেউ এগুতে পারে না। আমারও স্বপ্ন ছিল, এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন, এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই দায়িত্ব যেন পালন করতে পারি, সে জন্য দোয়া চাই।

নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রেজাউল বলেন, নগরবাসী আমার ওপর যে আস্থা, বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন, আমি চেষ্টা করবো আমার অঙ্গীকার শতভাগ পূরণ করতে। এক্ষেত্রে আমি আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাব। নগরের সমস্যা তো অনেক। চট্টগ্রামকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি নগরীতে পরিণত করা, মশা থেকে মোটামুটি মুক্ত করা- এসব কাজকে অগ্রাধিকার দেব।

বুধবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এম রেজাউল করিম চৌধুরী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনের চেয়ে ৩ লাখ ১৭ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/টিআরএইচ/জেডএম