গর্ভপাত হবে একজনের, করার চেষ্টা আরেক অন্তঃসত্ত্বার

ঢাকা, রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭,   ২২ রজব ১৪৪২

গর্ভপাত হবে একজনের, করার চেষ্টা আরেক অন্তঃসত্ত্বার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:১৭ ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে একজনের পরিবর্তে আরেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জিয়াসমিন আক্তার নামে ওই নারীর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

বুধবার সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশাদ উল্লার কাছে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জিয়াসমিনের চাচা লুৎফর রহমান। ভুক্তভোগী জিয়াসমিন জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।

ভুক্তভোগী জিয়াসমিন জানান, তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক অসুস্থজনিত কারণে ২৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ২০ নম্বর বেডে ভর্তি হন তিনি। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তার। এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে ডাক্তার নাসিমার নির্দেশে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাতেমা আক্তার তাকে বেড থেকে নিয়ে যান। পরে ডাক্তার রুমা আক্তারের সহযোগিতায় জোর করে গর্ভপাতের চেষ্টা করান। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নাসিমা আক্তার বলেন, ঘটনার সময় রাউন্ডে রোগী দেখছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে ডাক্তার রুমা ভালো বলতে পারবেন।

গাইনি বিশেষজ্ঞ রুমা আক্তার জানান, গাইনি ওয়ার্ডের ২০ ও ২১ নম্বর বেডে পাশাপাশি দুজন গর্ভবতী রোগী রয়েছেন। ২১ নম্বর বেডের রোগীকে ডিঅ্যান্ডসি করানোর কথা ছিল। সেভাবেই তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাতেমা বেগম ভুল করে ২০ নম্বর বেডের রোগীকে অপারেশন রুমে নিয়ে আসেন।

ঘটনার পর থেকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাতেমা নিখোঁজ। তাকে ফোনেও পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ জানান, হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ২০ ও ২১ নম্বর বেডে দুজন রোগী পাশাপাশি ছিলেন। ২১ নম্বর বেডের রোগীকে আনতে গিয়ে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ভুল করে ২০ নাম্বার বেডের রোগীকে নিয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করেন। রোগীর কান্নাকাটি শুরু করলে গর্ভপাত করাননি। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর